Home » Top 10 » অন্তঃসত্ত্বাকে ফেলে পালালো পাষণ্ড স্বামী রাস্তায় সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

অন্তঃসত্ত্বাকে ফেলে পালালো পাষণ্ড স্বামী রাস্তায় সন্তান প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবনের পেছনে গর্ভবতী স্ত্রী হালিমাকে  ফেলে পালিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। ফলে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। চিকিৎসার অভাবে মারা যায় নবজাতকটি। পরে ওই নারীকে রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল জানান, মঙ্গলবার সকালে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পেছন থেকে হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় সে তার সন্তান খুঁজে না পেয়ে কান্নাকাটি করে।

পরে যেখান থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয় তার একশ গজ দূর থেকে পুলিশ নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। 
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকার হালিমা বেগমকে বরিশালের আল আমিন নামের এক যুবক বিয়ে করে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো তারা। হালিমা যখন গর্ভবতী হন তখন তার স্বামী আলামিন তাকে সন্তান নষ্ট করতে বলে। এতে হালিমা অনিহা প্রকাশ করলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে হালিমাকে ইনজেকশ দিয়ে তার গর্ভের সন্তান করারও চেষ্টা করে। তাকে মানসিক নির্যাতন করায় হালিমা অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মঙ্গলবার সকালে হালিমাকে তার স্বামী তাকে তুলে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পিছনে ফেলে চলে যায়। ওই সময় রাস্তায় হালিমা সন্তান প্রসব করায় শিশুটি মারা যায়। আর হালিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে থাকে। নিজেকে বাঁচাতে হাসপাতালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় হালিমা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে। পরে হালিমার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়া। তিনি চিকিৎসার সকল খরচ বহন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। 
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. শান্তা ত্রিবিদী জানান, হালিমা বেগমের ৭/৮ মাসে সন্তান প্রসব হয়। তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে তাকে অপারেশন করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হালিমা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *