Home » Top 10 » আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা, স্তন ক্যানসার বিষয়ে সমাজকে সচেতন হতে হবে

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা, স্তন ক্যানসার বিষয়ে সমাজকে সচেতন হতে হবে

স্তন ক্যানসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে লজ্জা, ভয় দূর করে সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। এজন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। স্তন ক্যানসার আক্রান্ত  নারীদের মধ্যে এই রোগ দ্বিতীয় অবস্থানে বলে উল্লেখ করেন চিকিৎসকরা। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ ব্রেস্ট ক্যানসার কনফারেন্স-২০১৭’- শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ব্রেস্ট ক্যানসার স্টাডি ফোরাম ও সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ।

চিকিৎসকরা বলেন, দেশে দিন দিন স্তন ক্যানসারের রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়ে চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে যেতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগটি নির্ণয় করতে পারলে নিরাময় করা সম্ভব। স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রয়োজন উল্লেখ করে চিকিৎসকরা আরো বলেন, জেনেটিক, বাল্যবিবাহ ও দেরিতে বিবাহের কারণে স্তন ক্যানসার হচ্ছে। ঋতুস্রাব পরেই নারীরা নিজ স্তনে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎকরা। সেখানে কোনো সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশে প্রতি বছর ২২ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাবে স্তন ক্যানসারে রোগীরা মারা যাচ্ছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ক্যানসার এখন নিরাময় যোগ্য রোগ। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি নির্ণয় করা যায়। নারীরা স্তন ক্যানসারে বেশির ভাগ আক্রান্ত হন। তবে পুরুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আমাদের সমাজে স্তন ক্যানসার নিয়ে কিছু কুসংস্কারও রয়েছে। ফলে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কারণে অনেকের ক্ষতি হয়ে যায়। এই রোগ প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি এনজিওসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, স্তন ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার দ্বিতীয় অবস্থানে। স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে জীবন নিরাপদ। তিনি বলেন, জেনেটিক্যালি এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জনগণ সচেতন হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্রেস্ট ক্যানসার মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. এমএ হাই, অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, ডা. সেলিম রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ৫টি বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ব্রেস্ট ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বের ৫টি দেশের ১৮ জন বিশেষজ্ঞ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *