শিরোনাম
Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » আশা করতে দোষ কি?

আশা করতে দোষ কি?

২০০৮-এ পেসার হান্ট থেকে উঠে আসেন পেসার রুবেল হোসেন। পরের বছরই দেশের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর কেটে গেছে ৮ বছর। কাকতালীয় হলেও সত্যি এত বছর পর আরেক ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি ছুঁয়েছেন  নিজের শততম উইকেটে মাইলফলক। মাঝে ইনজুরি, ফর্ম, ব্যক্তিগত বিতর্কে নানা কারণে তিনি দলের বাইরে থাকলেও এখনো রুবেল বাংলাদেশের সেরা পেসারদের একজন। ২৮ বছর বয়সে তিনি অপেক্ষায় আছেন ৩ শ’ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার।

তবে সেটি অনেক দূরের ও কঠিন স্বপ্ন। তাই কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কেবল সেই ম্যাচ নিয়ে ভাবার কথা বললেন তিনি। শ্রীলঙ্কা দলের পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। সুরঙ্গা লাকমল, নুয়ান প্রদীপ, থিসারা পেরেরা, দুশমন্থ চামিরার সঙ্গে আছেন আনকোরা শিহান মদুশঙ্কা। তবে তাদের তুলনাতে মাশরাফি, মোস্তাফিজ, আবুল হাসান রাজুকেই রুবেলের বেশি সেরা মনে হয়। তিনি বলেন, ‘ওদের দলেও ভালো পেস বোলার আছে। আমাদের দলেও ভালো পেস বোলার আছে। মাশরাফি ভাই খুব ভালো ছন্দে আছেন। তিনি সবসময় ভালো বোলিং করেন। মোস্তাফিজও ভালো জায়গায় আসছে। আমার মনে হয়, আমরাই সেরা। বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখবো আমি।’ 
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মন্থর উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ। উপমহাদেশের দল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে স্বাগতিকরা হয়তো খেলবে স্পোর্টিং উইকেটে। দুই দলের প্রথম দেখায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে পেসারদের হাতেই।  বাংলাদেশ দলে রুবেলের সঙ্গে আছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান এবং দুই পেস অলরাউন্ডার আবুল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। 
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ব্যর্থতা ভুলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাশরাফি দল। তবে লঙ্কার বিপক্ষে যদি তিন পেসারই খেলানো হয় তাহলে রুবেল হোসেনকে পালন করতে হবে অন্যতম ভূমিকা। সুযোগ পেলে আবার তার হাতে উঠতে পারে নতুন বল। সেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন বলে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নিয়মিত অনুশীলনও করছেন রুবেল। তবে অধিনায়কের ইচ্ছে মতো এবং দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করার ইচ্ছার কথাও জানালেন এই পেসার, ‘নতুন বলে অবশ্যই বোলিং করতে ইচ্ছা করে। নতুন বলে বোলিং করার জন্য অনেক কাজ করছি। টিমের পরিস্থিতিতে যখনই নতুন বলে ওপেন করা বোলার মার খেয়েছে আমি কিন্তু তখনই বোলিং করতে চলে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ ভালোও করছি। আমি প্রস্তুত সব সময়ের জন্য। অধিনায়ক যখন যেখানে দরকার মনে করবেন আমি প্রস্তুত আছি বোলিং করার জন্য।’
২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দারুণ জয় এনে দেয়া রুবেল দেশে ফিরেই দল থেকে বাদ পড়েন ইনজুরির কারণে। এমনকি রিহ্যাব প্রক্রিয়ার কাজটিও ঠিকভাবে না করায় শাস্তি হিসেবে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েন তিনি। এরপর ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরেন ২০১৬ সালে আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে। তবে ছন্দ খুঁজে পাননি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুই উইকেট নিয়ে তার প্রমাণও রেখেছেন। 
তাই প্রশ্ন এসেছে ক্যারিয়ার শেষে তিনি কত উইকেটের মালিক হতে চান? রুবেল বলেন, ‘একশ’ উইকেট পেয়েছি আট-নয় বছরে। এর মধ্যে ১ বছর ইনজুরিতে ছিলাম। অনেক বছর লাগলো। এটা নির্ভর করে কতগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো। আমাদের দেশে পেস বোলাররা হয়তো অতো বেশি সুযোগ পায় না। টার্গেট তো এখন তেমন নাই। তারপরও চাই ২৫০-৩০০ উইকেট পেতে। তবে এটি অনেক কঠিন। তবে আশা করতে দোষ কি? স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে তো দোষ নাই। আশা করছি, দেখি কী হয়? মানুষ তো স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে। আমি না হয় স্বপ্ন নিয়ে আশা করে থাকলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *