শিরোনাম
Home » Top 10 » এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক বেড়েছে ১২৩ শতাংশ

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক বেড়েছে ১২৩ শতাংশ

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় হওয়ায় হিসাব (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ও জমা অর্থের পরিমাণ উভয়ই বাড়ছে। গত এক বছরের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক বেড়েছে ১২৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৬ জন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪ হাজার ৬২৪ জন। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহক বেড়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৮ জন। আর এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ
দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে গ্রাহক ছিল ১০ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন এবং জমাকৃত অর্থের স্থিতি ছিল ৯২২ কোটি ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে হিসাব বেড়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার এবং স্থিতি বেড়েছে ৪৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৭৭টি এবং আউটলেট সংখ্যা ৪ হাজার ১৫৭টি দাঁড়ায়। ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। এ সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১০৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে রেমিট্যান্স বিতরণ হয় ১ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ১ হাজার ৭৮২ কোটি ৬৪ লাখ রেমিট্যান্স বিতরণ হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পদ্ধতিতে বাড়তি চার্জ গুনতে হয় না গ্রাহককে। ফলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মনোযোগ দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। সঠিকভাবে পরিচালনা করলে দেশের প্রত্যেক ঘরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ ৪ বারে ২৪ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ ২টি লেনদেনে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২ বার ৮ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা করে ২টি লেনদেনে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে উত্তোলন সীমা প্রযোজ্য হয় না। দিনে ২ বার জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রতি এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব থাকতে হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে ১৪টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। এ ছাড়া এবি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক শিগগিরই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হিসাব খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভেতর), রেমিটেন্স উত্তোলন, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সকল প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করা যায়। এজেন্টরা কোনো চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারে না। এজেন্টরা বৈদেশিক বাণিজ্যসংক্রান্ত কোনো লেনদেনও করতে পারেন না। এ ছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোনো চেকও ভাঙানো যায় না। মোট লেনদেনের ওপর পাওয়া কমিশন থেকেই এজেন্টরা আয় করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *