শিরোনাম
Home » Top 10 » কলকাতায় হেলমেট না পরায় আরোহীকে পিটিয়ে হত্যা

কলকাতায় হেলমেট না পরায় আরোহীকে পিটিয়ে হত্যা

কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম শহরে শনিবার এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তারক্ষীদের পিটুনিতে নিহত হয়েছেন এক মোটরসাইকেল আরোহী। এ মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ। ভাঙচুর করা হয়েছে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন। অবরোধ করা হয়েছে মহাসড়ক।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। নিহতের নাম সৌমেন দেবনাথ (৪০)। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার সকালে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মাথায় হেলমেট না থাকায় তাকে থামতে বলে পুলিশের দুই স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তারক্ষী। তিনি থামেন। এরপর ওই নিরাপত্তারক্ষীরা তার কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তার ওপর চড়াও হয়। তার বুকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি লুটিয়ে পড়েন। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা পালিয়ে স্থানীয় একটি শৌচাগারে আত্মগোপন করে। ইতিমধ্যে পথচারীরা আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বলেন, তিনি পথিমধ্যেই মারা গেছেন। এতে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। তারা স্থানীয় পুলিশ স্টেশন ভাঙচুর করে। অবরোধ করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩৪। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামানো হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছে, পুলিশের সেচ্ছাসেবী নিরাপত্তারক্ষীরা প্রায়ই মানুষকে ভোগান্তির মুখে ফেলে। দাবি করে মোটা অঙ্কের ঘুষ। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা ট্রাক, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল পেলে তো কথাই নেই। মোটা অঙ্কের উৎকোচ ছাড়া তাদের ছাড়া হয় না। যেখানে, আইন অনুযায়ী হেলমেট না পরার জরিমানা ১০০ রুপি; যা সরকারকে প্রদেয়, সেখানে নিরাপত্তারক্ষীরা ৫০০ রুপির কমে কাউকে ছাড়ে না। এই টাকা তারা সরকারি তহবিলেও জমা দেয় না। দেয় না বিনিময়ে কোনো মানি রিসিপ্ট কিংবা অর্থ গ্রহণের স্বীকারোক্তিমূলক কাগজ। 

পুরোটাই নিজেদের পকেটে পোরে। বিক্ষোভকারীদের একজন রাজেশ দাস। তিনি বলেন, আইনভঙ্গকারীকে মারার অধিকার নিরাপত্তারক্ষীদের কে দিয়েছে? তারা কিভাবে গায়ে হাত তোলে? আমরা অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করছি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *