Home » Top 10 » ঘাতক জালালকে চিনে ফেলায় শিশু শাহপরানকে হত্যা

ঘাতক জালালকে চিনে ফেলায় শিশু শাহপরানকে হত্যা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শিবজয়নগর গ্রামের স্কুলছাত্র শাহপরানকে অপহরণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে দুই ঘাতক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের  আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মমিনুল ইসলাম জানান, মাধবপুর উপজেলার শিবজয়নগর গ্রামের তাউস মিয়ার ছেলে ঘাতক জালাল মিয়ার সঙ্গে বছর দেড়েক আগে বড়লেখা উপজেলার চানগ্রাম গ্রামের মহাম্মদ আলীর ছেলে মাদকাসক্ত ও পেশাদার অপরাধী রাসেল ওরফে কাটা রাসেলের পরিচয় হয়। কাটা রাসেল মাস দুয়েক আগে জালালকে প্রস্তাব দেয় অপহরণ করা যাবে এমন কোনো শিশু আছে কি না?  আনতে পারলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। এই প্রস্তাবে জালাল রাজি হয়ে যায়। পরিকল্পনা করে শিবজয়নগর গ্রামের তার প্রতিবেশী ব্যবসায়ী সাবাশ আলীর ছেলে স্কুলছাত্র ৭ বছরের শাহপরানকে অপরহণ করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে ৬ই জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলার আল আমিন হোটেলের সামনে জালাল ও কাটা রাসেল মিলিত হয়। সন্ধ্যার দিকে দুজন শাহপরানকে অপহরণের উদ্দেশে শিবজয়নগর গ্রামে শাহপরানের বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। জালাল দেখতে পায় শাহপরান পাশের বাছির মিয়ার দোকানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে টিভি দেখে। তখন জালাল কৌশলে শাহপরানকে কয়েকটি চকলেট দিয়ে বলে শাহপরানের মামা কিছুক্ষণ পরে শাহপরানের বাড়ি আসবে। রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে শাহপরানকে বাদশা কোম্পানির উত্তর দিকে খালি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে শাহপরান ও হৈচৈ শুরু করলে চিন্তায় পড়ে যায়। তাকে কি জীবিত রাখবে নাকি মেরে ফেলবে- দুই ঘাতক দোটানায় পড়ে। শাহপরান ঘাতক জালালের পরিচিত বিধায় পরবর্তীকালে তারা ফেঁসে যেতে পারে- এ চিন্তা করে শাহপরানকে দুজন মিলে গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ পার্শ্ববর্তী একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে লুখিয়ে রেখে বড়লেখায় পালিয়ে যায়। পরদিন ঘাতকরা মোবাইল ফোনে  শাহপরানের বাবার নিকট ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মাধবপুর থানার এসআই মমিনুল ইসলাম জানান, শাহপরান নিখোঁজের ঘটনায় তার পিতা সাবাশ আলী মাধবপুর থানায় ৭ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ অপহরণের সঙ্গে যুক্ত ঘাতক জালাল ও কাটা রাসেলেরকে বড়লেখা উপজেলার চান গ্রাম এলাকা থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে  থানায় এনে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল ও কাটা রাসেল অপহরণ ও খুনের বণর্না, লাশ পানির নিচে লুকিয়ে রাখার লোমহর্ষক বণর্না দিলে ঘাতক জালালকে নিয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবজয়নগর গ্রামের ডোবা থেকে শিশু শাহপরানের মরদেহ উদ্ধার করে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *