শিরোনাম
Home » Top 10 » জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, মুলতবির আবেদন খারিজ আজও আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, মুলতবির আবেদন খারিজ আজও আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অন্য আসামিদের যুক্তিতর্ক হয়েছে। মামলায় আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন তাদের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর কারণে বৃহস্পতিবার একদিন মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। আদালত বৃহস্পতিবার একদিন হাজিরা থেকে রেহাই দিলেও মামলার কার্যক্রম চলবে বলে জানান। মামলার কার্যক্রম মুলতবি না রাখায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই পেলেও আজ যথারীতি আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ করেন তার আইনজীবীরা। ওই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা না-মঞ্জুর করেন। এ মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আসামিদের উপস্থিতিতে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বিচারকাজ শুরু করেন বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আদালতে শুনানি শুরু হওয়ার পর মামলাটি কালকের জন্য মুলতবি রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তারা আদালতকে জানান, আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ জন্য মামলা মুলতবি রাখার আবেদন জানানো হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত খালেদা জিয়াকে কালকের হাজিরা থেকে রেহাই দেন; তবে মামলার কাজ চলবে বলে জানান। এদিন যুক্তিতর্ক তুলে ধরে আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ নিজেই বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী হয়েছে এবং ডিড হয়েছে। ট্রাস্টের নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তা-ও প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকে একটি টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি; বরং দুুই কোটি টাকা এখন ব্যাংকে বৃদ্ধি পেয়ে ছয় কোটি টাকা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো মামলা হতে পারে না। আসলে হাওয়ার ওপর এই মামলা হয়েছে। আমি আশা করি, এই মামলার সব আসামি খালাস পাবেন। 
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় দুদক এ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। এ মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৬শে জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *