শিরোনাম
Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » দল খুশি আমিও খুশি

দল খুশি আমিও খুশি

এনামুল হককে নিয়ে ফিসফাস, নানা গুঞ্জন। ‘সেলফিশ’ এর মতো বিব্রতকর একটি শব্দ তার নামের পাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বলাবলি হচ্ছিল এ তরুণ ওপেনার নাকি দলের জন্য নয়, নিজের জন্যই খেলেন। তাই ২০১৫-তে দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরের ক্রিকেটে দারুণ খেলেও দলে ফেরা হচ্ছিল না তার। অবশেষে প্রায় তিন বছর পর দলে এলেন। সৌম্য সরকারের বিকল্প হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেললেন দু’টি ম্যাচে।

তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ ও ৩৫ রানের দু’টি ইনিংস। যাতে দেখা মিলেছে অন্য এক এনামুলের। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তার ব্যাটিং দেখে বলেছেন এমন ভয়-ডরহীন খেলাই চান তিনি। তবে নিজেকে বদলে কতটা সফল হবেন তিনি? দলে জায়গা পাওয়ার পর থেকে মাঠেই নয়, বাইরেও বদলেছেন নিজেকে। খুব কাছের মানুষ ছাড়া কথা বলেন না। এমনকি সংবাদ মাধ্যমকেও এড়িয়ে যান সুকৌশলে। বলার অপেক্ষা রাখে না নিজেকে বদলে ফেলতে কিছুটা চাপেও আছেন তিনি। ২ ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনাল নিশ্চিত করা টাইগারদের গতকাল ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। মিরপুরের ইনডোরে এনামুল ব্যাট হাতেই সময় কাটিয়েছেন। তার একফাঁকে তিনি মুখোমুখি হন সংবাদ মাধ্যমের। যথারীতি তার বদলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন। এনিয়ে এনামুল বলেন, ‘দল যেভাবে চেয়েছে, সবাই খুব সাপোর্ট করছে। তামিম ভাইয়ের থেকে শুরু করে, মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই, সাকিব ভাই, মাশরাফি ভাই সবাই খুব সাপোর্ট করছে। সবাই ইতিবাচক আছে। এ জিনিসটা খুবই ভালো লাগার বিষয়। আসলে সব সময় চেয়েছি দল যেভাবে চায় সেভাবে নিজেকে উজাড় করে খেলতে। আমার কাছে মনে হয় দল যেহেতু খুশি আছে তাই আমি নিজেও খুশি।’ 
অনেকদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন। এতদিনে বদলে গেছে ড্রেসিং রুমের চিত্র। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররাই নন, মোস্তাফিজ ও মিরাজের মতো ক্রিকেটাররা এখন দলের অন্যতম শক্তি। তামিম, সাকিবদের সঙ্গে তরুণরাও বিশ্বের যে কোন দলের জন্য ভয়ের কারণ। এমন একটি ড্রেসিংরুমে এনামুলের দায়িত্ব যেমন বেড়েছে। তেমনি ভালো করার অনুপ্রেরণাও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে থাকলে আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। সব ফরম্যাট মিলে তামিম ভাইয়ের ১১ হাজার রান, সাকিব ভাইয়ের ১০ হাজার, মুশফিক ভাইয়ের ৩০০ ম্যাচ। মাশরাফী ভাইয়ের মতো নেতৃত্ব, রিয়াদ ভাইয়ের মতো দারুণ ফাইটার, মোস্তাফিজের মতো এ রকম একজন খেলোয়াড় আছে যে এখন ড্রেসিরংরুম হয়ে গেছে আগের থেকে অনেক ওজনদার হয়ে গেছে। মনে হয় এ ড্রেসিংরুমে থাকতে হলে নিজেকে বাড়তি কিছু করতে হবে। বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে। এই মনে হওয়াটা অনেক বড় বিষয়। এই পরিবর্তনটা চোখে লাগার মতো। ড্রেসিংরুমটা অসাধারণ এখন। নামটা বাংলাদেশ হলেও- এখন দেশটা অনেক বড়।’ 
সব ক্রিকেটারই চান দলের সঙ্গে নিজের ঝুলিটাও ভারী হোক। তাই কেউ ১৯ করলে চেষ্টা করেন সেটিকে ফিফটিতে নিতে। এমনকি ফিফটির কাছে গিয়ে মাইলফলক ছুঁতে কিছু বলও নষ্ট করেন ঝুঁকি না নিয়ে। এনামুল এর বাইরে নয়। কিন্তু দল যে তাকে দিয়েছে অন্য বার্তা। সেইভাবে খেললে এক রানে আউট হলেও খুশি দল। এমনকি ৪৯ বা ৯৯ রানে আউট হলে কোন অভিযোগ করা হবে না। এমন স্বাধীনতা নিয়ে এনামুল বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাকে ফ্রিডম দেয়া হয়েছে আমাকে আমার মতো করে খেলতে। দল যেভাবে চাচ্ছে চেষ্টা করছি সেভাবেই খেলার জন্য। আসলে স্বাধীনতা পেলে তো অবশ্যই ভালো লাগে। নিজেরটা আরও দেখানো যায় কতটুকু পারা সম্ভব, কতটুকু পারি। আমার মনে হয় ফ্রিডম থাকা এ রকম খেলা। দল যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই খেলছি।’ 
তবে সুযোগ পেলে বড় রান করারও ইচ্ছা আছে তার। কিন্তু সেটিও দলের পরিস্থিতি অনুসারে। এনামুল বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় খুব ভালো ব্যাটিং করছি কিন্তু সুযোগ দেয়া ছাড়া। ওই সময় খুব ভালো একটা ক্যাচ ধরে ফেলে। কিংবা রান আউট হয়ে যেতে পারি। আবার কোনো এক ভুলে আউটও হয়ে যেতে পারি। আবার লাইফটা আসলে খেলার একটা অংশ। আমার কাছে মনে হয় লাইফের বলটা চলে গেছে তো চলে গেছে। পরবতী বলটা খেলার চেষ্টা করি সব সময়। আর আমার কাছে মনে হয় আক্রমণাত্মক আছি, দল যেটা চাচ্ছে সেভাবে খেলার। এর মধ্যে চান্স আসতে পারে, ভালো ব্যাটিং করতে পারি।’ এ শিক্ষাটা কাজে লাগিয়েই অনেকদূর নিজেকে নিয়ে যেতে চান এনামুল। তিনি বলেন, ‘যতটুকু শিখেছি, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সেটা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বা টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে; সবসময় দলের প্রয়োজনে যেভাবে ব্যাটিং করার সেভাবেই করেছি। আমার নিজের একটা স্টাইল আছে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করি, ঠিক আছে। কিন্তু দল যখন যেভাবে চায় সেভাবে ব্যাটিং করার ক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করছি। সামনে যদি এমন পরিস্থিতি আসে কম বলে বেশি লাগবে বা বেশি সময়ে কম, ওই পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে খেলব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *