Home » Top 10 » দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শীতে কাবু দেশ

দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শীতে কাবু দেশ

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ। তাপমাত্রা নেমে এসেছে তিন ডিগ্রির নিচে। যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তীব্র শীতে উত্তরের জেলায় অন্তত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। শীতে  বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহ সামনে আরো কয়েক দিন চলবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১৯৬৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পর ৫০ বছরে এই প্রথম এতো বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান গতকাল জানান, অর্ধ শতকের মধ্যে সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগের দিন রোববার তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে রংপুরের ডিমলা পয়েন্টে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজারহাটে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রংপুরে ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু উত্তরের জনপদেই নয় সারা দেশেই চলছে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। এতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়ও। গতকাল রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ ড. আবদুল মান্নান মানবজমিনকে বলেন, এবার তীব্র শীত অনুভূত হবে সেটা আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাপমাত্রা এত নিচে নেমে রেকর্ড ভাঙবে সেই ধারণা ছিল না। তবে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি অনুযায়ী গত ৩রা জানুয়ারি থেকে চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১২ থেকে ১৩ই জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। 
অন্যদিকে টানা শৈত্যপ্রবাহে সোমবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলোতে ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শনিবার তীব্র শীতে কুড়িগ্রামের চিলমারীর সবুজপাড়া এলাকার আ. সামাদের স্ত্রী নুরিমার মৃত্যু হয়। একই দিনে মাছাবান্দা এলাকার আজাহার আলী নামের একজনের মৃত্যু হয়। জেলার ফুলবাড়ী থানার শীতজনিত শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন দুইজন। তারা হলেন- উপজেলার কুটিচন্দ্রখানা আব্দুল্যাহ বাজার এলাকার মৃত সমতউল্ল্যার ছেলে মজর উদ্দিন (৭০) ও বালাতারী কলেজপাড়া গ্রামের মৃত কালিয়া মামুদের ছেলে আহাম্মদ আলী টাংগুরা ধনী (৮৫)। উত্তরাঞ্চল থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না। মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। শীত এবং কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। কুয়াশায় বিঘ্নিত হচ্ছে ফেরি ও বিমান চলাচল। মহাসড়কে দিনে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। 

এক সপ্তাহে ১১ জনের মৃত্যু কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে বাড়ছে রোগ-ব্যাধি। গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিম ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। নদ-নদী তীরবর্তী ও শহরের দরিদ্র অসহায় মানুষ এক কাপড়ে পার করছেন কনকনে শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে লোকজন ঘর থেকে কাজে বের হতে পারছে না।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান সরদার শিপন জানান, ১লা জানুয়ারি থেকে ৮ই জানুয়ারি (গতকাল) পর্যন্ত এই হাসপাতালে শীতের বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ১৮০ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ৩১ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৮ জন শিশু। শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধ এবং মহিলা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল হক প্রামানিক জানান, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ১১ জন রোগী মারা গেছে। এদের মধ্যে দুই জন বয়স্ক। তাদের হার্টের অসুখ ও শ্বাসজনিত সমস্যা ছিল। বাকিরা শিশু। লোবাকোয়েট, নিউমেনিয়া ও  জন্মের সময় সমস্যার কারণে মারা গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মৃত্যুর পেছনে শীতের প্রভাব রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের আমিনুল জানান, চলতি শীত মোকাবিলায় ত্রাণ বিভাগ থেকে ৯টি উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। যেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে রাজারহাট আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তেঁতুলিয়ায় ৫০ বছরের মধ্যে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন রেকর্ড 
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায়। গতকাল সকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত চার দিনের মাঝারি শৈত্য প্রবাহের পর রোববার রাত থেকে শুরু হয় তীব্র শৈত্য প্রবাহ। গতকাল ভোররাত থেকেই ভারি কুয়াশায় ঢেকে যায় জেলার সব এলাকা। ভোরে দুই হাত সামনের জিনিসও ভালো মতো দেখা যায়নি। তবে সাড়ে ৯টার দিকে সূর্যের মুখ দেখা যাওয়ার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল ৬টার সময় সর্বনিম্ন মাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল বিকাল ৩টার সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, একই অফিসের গ্রাস থার্মোমিটারে গতকাল সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, জেলার শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য গতকাল রাতে পঞ্চগড়ে পৌঁছেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। সেখানে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি বোদা উপজেলার পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে ঠাকুরগাঁও যাবেন।

মোর ঘরও নাই, শীতের কাপুড়ও নাই
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: ‘মোর ঘর দুয়ারও নাই, শীতে কাপুড়ও নাই। কেউ মোরে ঘরও দ্যায় না, শীতের কাপুড়ও দ্যায় না। মোরে জম্মের কালে (শীত) ধরছে। এত জম্মের কাল মুই আর সইতে পারি না।’ গতকাল ইন্দুরকানী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ধীরোজ হালদারের স্ত্রী রেনু বালা (৭০) আক্ষেপের সঙ্গে শীতে কেঁপে কেঁপে এ কথাগুলো বলছিলেন। দেখা যায়, তার বসবাসযোগ্য কোনো ঘর নেই। শীত নিবারণের জন্য নেই প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র। সুপারি গাছের পাতা ও পলিথিন টানিয়ে কোনো মতে প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারিভাবে তার জন্য কোনো বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে তারাও তার কোনো খোঁজ খবর রাখছে না। প্রচণ্ড শীতে সরকারিভাবে এ উপজেলায় পাঁচ শতাধিক কম্বল বিতরণ করলেও তার ভাগ্যে জোটেনি। তিনি শীতের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রেনু বালা সরকারের কাছে থাকার জন্য একখানা ঘর চেয়েছেন। কচা ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় উপজেলার পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এভাবে তিনটি আবাসন প্রকল্প, একটি গুচ্ছগ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এক হাজার পরিবার শীতবস্ত্রের অভাবে জবুথবু হয়ে পড়েছে। তেমনি শীতজনিত বিভিন্ন রোগে বৃদ্ধ ও শিশুরা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছে।

সাঁথিয়ায় শীতে বৃদ্ধের মৃত্যু
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি:  রোববার মধ্য রাতে তীব্র শীতের প্রকোপে আবু বক্কর প্রাং (৮০) নামে এক বৃদ্ধের  মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার ভূলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভূলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. আবু ইউনুস সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রোববার রাতে আবু বক্কর শীতে তার নিজ বাড়িতে মারা যান।  সে পাঁচ ছেলে ও চার কন্যার জনক। কয়েক দিনে উত্তরের ধেঁয়ে আসা বাতাসে ঘন কুয়াশা তীব্র হাড় কাঁপানো শীতে শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে।

নেত্রকোনায় শীতে কাঁপছে অসহায় হাওরবাসী
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: অকাল বন্যায় একমাত্র ফসল হারানোর পর এবার তীব্র শীতে কাঁপছে জেলার হাওর পাড়ের অসহায় মানুষ। অর্থের অভাবে শীতবস্ত্র কিনতে না পেরে শীতে কষ্ট করছেন তারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের করছেন হাওর পাড়ের অসহায় মানুষ।
জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দায় গত বছর অকাল বন্যায় একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেকে এক ছটাক ধানও কাটতে পারেনি। এতে করে হাওরবাসীকে ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। গত চার-পাঁচ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার খালিয়াজুরী হাওরে পশ্চিমা বাতাস আর তীব্র শীতে মানুষ কাবু হয়ে গেছে। এ ছাড়া জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দায় হাওর পাড়ের মানুষকে শীতে কষ্ট করতে হচ্ছে। এখন ফসলী জমি রোপণ করার সময়। শীতে ফসলী মাঠে কাজ করতে যেতে পারছে না। জেলেরা পারছে না মাছ ধরতে হাওরে যেতে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেড়েছে বাতাসে শীতের তীব্রতা, আর বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। এদিকে শীতের কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায় মানুষ। গত বছর শতভাগ ফসল হারিয়ে এমনিতেই মানবেতর জীবন যাপন করছে হাওর পাড়ের মানুষ। 

উল্লাপাড়ায় প্রচণ্ড শীত
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে উল্লাপাড়ার মানুষ। রোববার রাতে উপজেলার অলিপুর বাজারে মাটি টানা ট্রলির চালকেরা কাঠ-খড় ও কাগজ পুড়িয়ে উত্তাপ নিতে গিয়ে জামা-কাপড়ে আগুন লেগে চার জন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে অলিপুর গ্রামের ছানোয়ার শেখের ছেলে ডাবলু শেখের (৩২) অবস্থা গুরুতর। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাতেই ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা হলেন একই গ্রামের সোবহান আলী, আবুল কালাম ও মোহাম্মদ আলী। এই তিন জনকে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে বলে তাদের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, শীতের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে এসে শীত নিবারণের জন্য এসব ট্রলি চালক রাত ৮টার দিকে অলিপুর বাজারে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নেয়ার প্রথমে ডাবলু শেখের গায়ে আগুন ধরে। তার আগুন নেভাতে গিয়ে উল্লিখিত অপর তিন জন দগ্ধ হন।

৬ ডিগ্রিতে নেমেছে বরিশালের তাপমাত্রা জনজীবন বিপর্যস্ত
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে: এত শীত আর কবে পড়েছে, তাপমাত্রা এত নিচে কবে নেমেছে তা কেউ বলতে পারছে না। তবে অসহ্য এই ঠাণ্ডায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল। গতকাল সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বরিশালে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, ‘মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে হালকা ধরনের ঠাণ্ডা বাতাসও বইছে। তিনি জানান ঘণ্টায় ১১ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। এ কারণে তীব্র শীতের অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০৭ দশমিক ০৮ ডিগ্রি  সেলসিয়াস। 
আনিসুর রহমান জানান, মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ২/১ দিন পরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীত যে কমে যাবে এমনটা নয়। এখন কখনো শীতের তীব্রতা বাড়বে আবার কখনো শীতের তীব্রতা কমবে। তিনি বলেন, কুয়াশা থাকলে তাপমাত্রা বেশি থাকে, তবে শীত অনুভূত হয়। বর্তমানে উত্তরদিক থেকে বাতাস বয়ে চলার কারণে কুয়াশা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তবে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলা বাতাসে কুয়াশার পরিমাণটা বাড়বে। তাই বলা চলে শৈত্য প্রবাহ চলে গেলে কুয়াশার পরিমাণ বাড়বে। এদিকে ঠাণ্ডা বাতাস ও তীব্র শীতে কাতর হয়ে পড়েছে দক্ষিণ জনপদের মানুষ। দুপুরের রোদেও গরম কাপড় মুড়িয়ে চলাফেরা করছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতালগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যার মধ্যে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সংখ্যাই বেশি। যথাসময়ে সূর্যের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার পরে শীতের কারণে রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা থাকছে।
এদিকে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন। স্থবির হয়ে পড়েছে কাজকর্ম। প্রয়োজন ছাড়া এলাকার মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। তাছাড়া কয়েকদিন ধরেই পড়ছে ঘন কুয়াশা। বেলা ১০টা পর্যন্ত  দেখা মেলেনি সূর্যের। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমালয় ছুঁয়ে আসা হিমশীতল হাওয়া। এতেই কাঁপছে দক্ষিণের এ জনপদ। বিশেষ করে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষগুলোর দুর্ভোগের অন্ত নেই। অসুস্থ হয়ে পড়ছে তারা। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত ডাইরিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।
এদিকে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে ছিন্নমূল দুস্থ মানুষেরা। শীত নিবারণের মতো কিছু না পেয়ে সারা রাত খড়কুটো, ছেড়া কাগজ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। বরিশালের বিভিন্ন সংগঠন যারা আগে কম্বল বিতরণ করতো এবার তাদের সাড়া মিলছে না। 
বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতিকালে ত্রাণ দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ  দেয়া ২০ হাজার কম্বল শীতার্তদের সহায়তায় এরই মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া গতকাল আরো ৩০ হাজার কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে।  সেগুলোও ২/১ দিনের মধ্যে উপজেলাগুলোর অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।’ এদিকে জেলা প্রশাসক শীতার্তদের পাশে বেসরকারি উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফুলবাড়ীতে তীব্র শীতে ২ জনের মৃত্যু
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা ছয় দিনের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ আসলেও সংখ্যায় তা অপ্রতুল। শীতের সঙ্গে কনকনে বাতাসের কারণে কাহিল হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও ক্ষেতমজুররা। নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতজনিত শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন দু’জন। তারা হলেন উপজেলার কুটিচন্দ্রখানা আব্দুল্যাহ বাজার এলাকার মৃত সমতউল্ল্যার ছেলে মজর উদ্দিন (৭০) ও বালাতারী কলেজপাড়া গ্রামের মৃত কালিয়া মামুদের ছেলে আহাম্মদ আলী টাংগুরা ধনী (৮৫)। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন সকাল ৯টায় জেলায় তাপমাত্রা ৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *