Home » Top 10 » নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে নিখোঁজ মেরিন প্রকৌশলী রফিকুল হাসান রিমনের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত দেড়টার দিকে একটি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের নিচতলার বেজমেন্ট থেকে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ তার প্রকৌশলীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, কেউ তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে দিয়ে গেছে। হয়তো পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও ধারণা করছে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়ার দাগ দেখা যায়। চোখ ফোলা, মুখে কালচে দাগ, মুখের ডান পাশে কানের দিকে আঘাত করে থেঁতলানো ও ডান হাত ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এছাড়া তার বুকে ও পিঠে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

নিহত রিমনের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জসিম উদ্দিন মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, রিমন একজন মেরিন প্রকৌশলী ছিলেন। বছরের অধিকাংশ সময়ই তিনি বিদেশে গিয়ে জাহাজের কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন তিনি চায়নায় ছিলেন। দেড় মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালে তিনি কাকন নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের ৫ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। রিমনের পরিবারের সঙ্গে কাকনের পরিবারের বিরোধ ছিল। এজন্য রিমন ও কাকনের মধ্যে প্রায়ই মনমালিন্য লেগে থাকতো। এরই জের ধরে কাকন ডিভোর্স লেটার দেন রিমনকে। কিন্তু রিমন সেটি কয়েক মাস পরে গ্রহণ করেন। জসিম উদ্দিন আরো জানান, তাদের দুই সন্তান মায়ের কাছেই থাকতো। রিমন দেশে আসার পর কিছুদিনের জন্য সন্তানদের তার কাছে নিয়ে আসেন। গত ১৬ই ডিসেম্বর ছেলে মেয়েকে মায়ের কাছে দেয়ার জন্য রিমন বাসা থেকে বের হন। এক পর্যায়ে তিনি এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান মার্কেটের গলির কাকনদের বাসায় সন্তাদের পৌঁছে দেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ওই দিন সারা রাত রিমনের কোন খোঁজ পাওয়া না গেলে পরের দিন পরিবারের পক্ষ থেকে নিউমার্কেট থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে ওই রাতেই রিমনের লাশ পাওয়া যায় শুক্রাবাদ এলাকায়। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন এসে মৃতদেহ সনাক্ত করেন। জসিম উদ্দিন আরো বলেন, রিমন কিছুদিন আগেও আমাকে বলেছে ভুল জায়গায় সংসার করে তার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া সে তার শ্বশুর বাড়ীর সঙ্গে তাদের বিরোধের কথাটাও অনেকদিন ধরে বলছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *