Home » Top 10 » নড়াইলে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই

নড়াইলে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই

নড়াইলের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে শারমিন খাতুন (২৫) নামে এক মহিলার পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করা হয়েছে। সাড়ে ৩ মাস নিজেদের কব্জায় রেখে চিকিৎসা সেবার নামে প্রায় ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে তার ছাড়পত্রটিও কৌশলে নিয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । শনিবার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।
রোগী শারমিনের স্বজনরা জানান, ২০১৭ সালের ২৯শে জুলাই সকালে মাগুরার শালিখা উপজেলার দড়িখাটো গ্রামের মাসুদ মোল্যার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা শারমিন খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ সময় তিনি নড়াইল সদর উপজেলার ধোন্দা গ্রামে পিতার বাড়িতে ছিলেন। তাৎক্ষণিক তাকে নড়াইল সদর হাসপাতাল সড়কের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়।

৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ওইদিন বিকালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন নড়াইল সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিএম নূরুজ্জামান। অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তান প্রসবের ৬ দিন পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। দেড় মাস পার হতেই তার পেটে হালকা যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপর যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা সইতে না পেরে তিনি ডা. জিএম নূরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ডা. নূরুজ্জামান জানান, ইনফেকশনের কারণে এমনটা হচ্ছে। কিছু ওষুধ দিয়ে বলেন, এতে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তার পেটের যন্ত্রণা মোটেও কমেনি। বরং বাড়তে থাকে। তাকে প্রতিসপ্তাহে একদিন আসার পরামর্শ দেন। আসা মাত্রই জিএম নূরুজ্জামান তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বলা হয় ইনফেকশন অনেকটা কমে গেছে। এভাবে তাকে ১৬ বার আল্ট্রাসনো করা হয়েছে। প্রতিটি আল্ট্রাসনো রিপোর্ট চিকিৎসক নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। একপর্যায়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা দেয়া হয়। এরই মধ্যে নানা অজুহাতে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে শারমিনের পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। ক্রমেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগীর অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে গত ২০শে ডিসেম্বর শারমিনকে অন্যত্র নেয়ার পরামর্শ দেন ডা. জিএম নূরুজ্জামান। ২১শে ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৫১৭১/৪৭। শারমিনের পিতা নড়াইল সদর উপজেলার ধোন্দা গ্রামের মনি মিয়া জানান, তার মেয়ের অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ-ব্যান্ডেজ থেকে যাওয়ার ঘটনাটি গোপন করতে গিয়ে ডা. নূরুজ্জামান ও হাসপাতালের মালিক মুকুল হোসেন রোগীকে চিকিৎসা সেবার নামে নিজেদের কব্জায় রেখে দেন দীর্ঘদিন। তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। অন্যত্র নিয়ে রোগীর চিকিৎসা নেয়ার কথা বলা হলেও তারা যেতেদননি। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে রোগী আটকে রেখে এভাবে তারা মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। শারমিনের ননদ কাকলী আক্তার জানান, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. শারমিন নাহার পলির পরামর্শে যশোর হতে আল্ট্রাসনো করার পর 
তারা জানতে পারেন রোগীর পেটের মধ্যে শক্ত কি যেন রয়েছে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক রীনা ঘোষ ও শারমিন নাহার পলির নেতৃত্বে শারমিনকে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় তারা রোগীর পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করেন। বর্তমানে শারমিন খাতুন গাইনি ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নড়াইলের ফ্যামিলি হাসপাতালের পরিচালক কথিত ডা. মুকুল হোসেন জানিয়েছেন, তার হাসপাতালে ডা. জিএম নূরুজ্জামান রোগী শারমিনকে ৬ মাস আগে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেছিলেন। তার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ায় ২ মাস পর চিকিৎসার জন্য রোগিকে আনা হয়। ডা. নূরুজ্জামানের পরামর্শে রোগীকে কয়েকদিন ভর্তি রেখে নিয়মিত ড্রেসিং করা হয়েছে। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। নড়াইল সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. নূরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *