Home » Top 10 » পুলিশ ধরলে ১৮ ঘা- মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে

পুলিশ ধরলে ১৮ ঘা- মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে

পুলিশকে আরো জনবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের একটি পুরাতন প্রবাদ আছে ‘বাঘে ছুঁলে এক ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা’- এটি যেন মিথ্যা প্রমাণ হয়। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে পুলিশ সদস্যদের সচেষ্ট থাকতে হবে। মানুষ যেন মনে করে, এই পুলিশ আমাকে সাহায্য করবে বা আমার পাশে আছে। সেই ভরসা ও বিশ্বাসের জায়গাটা পুলিশ ধীরে ধীরে অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। জাতীয়  পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গতকাল তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সহিংসতা কঠোর হস্তে দমনে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিএনপি-জামায়াত এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের মানুষ পুড়িয়ে মারা কোন ধরনের রাজনীতি আমি জানি না। আমরা রাস্তা করি তারা রাস্তা কেটে দেয়, আমরা গাছ লাগাই তারা গাছ কেটে দেয়, রেলের লাইন তৈরি করি তারা উপড়ে ফেলে।
মৃতপ্রায় রেলকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকার ইঞ্জিন-বগি সব কিনে আনার পড়ে সেগুলো পোড়াচ্ছে, নতুন নতুন কেনা বাস পোড়াচ্ছে, সাধারণ মানুষ যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে খায় তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী সদা তৎপর। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাতেই তারা এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ জন্য আপনাদের মাধ্যমে সকল পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, এ দেশে বিএনপি-জামায়াত এসে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করলেও এটা বাংলাদশের একার সমস্যা নয়, সারা বিশ্বের একটি সমস্যা এবং এ সমস্যা সমাধানে অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে। তারপরও তিনি বাংলাদেশ পুলিশকে কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করে যাওয়ায় ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার সালমা বেগম এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আলী হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। 
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে পুলিশ, গোয়েন্দা এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, সবকাজ কিন্তু সবসময় এককভাবে করা যায় না। এখানে তথ্য আদান-প্রদান করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে যদি কাজ করা যায় তবে ক্যাজুয়ালিটি কম হবে এবং কাজের সাফল্যও বেশি আসবে। তিনি তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনা না করে এককভাবে শুধু ক্রেডিটের জন্য অপারেশন পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখানে একক ক্রেডিট নেয়ার কোনো ব্যাপার নয়, কাজের ঝুঁকির কথাও চিন্তা করতে হবে। কারণ, যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন সেখানে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য এবং সাহায্য নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে গণমানুষকে সরকারের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘জনগণই কিন্তু ক্ষমতার মূল উৎস। তাই আমরা যদি এসব কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে কাজগুলো আরো সহজ হয়ে যায়।’ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে তাঁর সরকারের সারা দেশের মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে গণসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারার কারণেই আমরা এই সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। কারণ, মানুষই কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় খবর সরবরাহ করছে। যে কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ আজকে অবাকই হয়ে যায় যে, এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে আমরা কিভাবে এটাকে সফল হতে পারছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে একটা সমস্যা এখন দেখা দিচ্ছে সেটাও ব্যাপক, জঙ্গিবাদের মতোই আরেকটা সমস্যা, সেটা হলো মাদকের সমস্যা- এই মাদকাসক্তি আজকে সমাজ ধ্বংস করছে। এটার নিরসনে আমাদের আরো কঠোর হতে হবে। এই মাদক কোথা থেকে আসে, কারা এই মাদকের ব্যবসা করে, কারা গ্রহণ করে তাদের বিষয়ে আপনাদের আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এই কারণে যে, বহু মেধাবী ছাত্র এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের পরিবারের ওপর রীতিমত জুলুম-অত্যাচার হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঠিক যেভাবে জঙ্গিবাদ দমন করেছেন, সেভাবেই এখন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। সরকারের সময়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে মানুষের মধ্যে আরো কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে, আমাদের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে, উন্নত হবে। দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিটা ত্বরান্বিত হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর কাছে কিছু চাইতে হয় না। তাঁর সরকার নিজ থেকেই প্রয়োজনগুলো দেখে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। আর দেশের উন্নয়ন করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তারা যেন নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারে সে সুযোগটাও সৃষ্টি করা দরকার, বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শীতের জন্য ড্রেসের সঙ্গে হাফস্লিভ সোয়েটার প্রদান এবং পুলিশের গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সিনিয়র পুলিশ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *