Home » Top 10 » প্রশ্নফাঁস বন্ধে দুদকের ৮ সুপারিশ

প্রশ্নফাঁস বন্ধে দুদকের ৮ সুপারিশ

কোচিং, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শিক্ষাসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম ৩৯টি সুপারিশ করেছে। তারা সুপারিশগুলো দিয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে দুদকে। দুদকের পক্ষ থেকে সুপারিশের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের 
প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়েছে। সুপারিশমালায় স্বাক্ষর করেছেন দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। প্রশ্নফাঁস বন্ধে ৮টি সুপারিশ করে দুদক। এরমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডের সম্ভাব্য দুর্নীতির উৎস উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র।

ফলে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। কোচিং এবং নোট-গাইড বাণিজ্য বন্ধে ৮টি সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে ঠিক মতো পাঠদান না করা, পাঠ্য পুস্তক, কোচিং মালিক এবং কতিপয় শিক্ষকের অবৈধভাবে স্বল্প সময়ে সম্পদ অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষা কার্যক্রমের মনিটরিংয়ের অভাব এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা ইত্যাদি দুর্নীতির মূল উৎস। এটা বন্ধ করতে না পারলে সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ করে এই খাতে দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, কলেজ মাদরাসার প্রধান শিক্ষক-প্রিন্সিপাল, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এমপিওভুক্তীকরণ, বোর্ড পরীক্ষার সময় ফরম পূরণে-কোচিং ফি, হোস্টেল-ভবন সংস্কার, শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়, উন্নয়নসহ বিভিন্ন মনগড়া খাত সৃষ্টি করে অর্থ আদায়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনুরূপভাবে ভর্তির সময় বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া ল্যাবরেটরি ফি, মডেল টেস্টের ফি-এর নামে অর্থ আদায়কেও দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষার পলিসিসহ সব কার্যত্রুমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিচালনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন পথে পরিচালিত হবে তার নিয়ন্ত্রক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বছরের শুরুতেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া, নারী শিক্ষা প্রসারে যুগান্তকারী কিছু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের ঈর্ষণীয় সাফল্য থাকলেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং বাণিজ্যের প্রসার, নোট-গাইডের ব্যাপক প্রচলন, শিক্ষক বদলি ও পদায়নসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতিবাচক আলোচনায় মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ মালায় বলা হয়েছে, পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণর টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিভিন্ন কমিটি গঠন, পাঠ্য বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতিপয় প্রকাশকদের কাছে অননুমোদিতভাবে সরবরাহ, অবৈধ কোচিং বাণিজ্য প্রসারের জন্য বইয়ে তথ্য সংক্ষিপ্তকরণ, স্বনামে-বেনামে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি দুর্নীতির কারণ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি যেমন- টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, নেগোসিয়েশনের নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাপোর্টিং বা এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেনামে অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করা দুর্নীতির উৎস হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইমেজ ধরে রাখতে ৬টি সুপারিশ করেছে দুদক। এরমধ্যে আছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি করা, ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটালে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া, প্রতিষ্ঠান প্রধান/গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-০১ পর্যন্ত পদগুলোর ছাড়া অন্যান্য পদের বদলি ও পদায়ন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর/বিভাগীয় কার্যালয়ের ওপর ছেড়ে দেয়া, বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়ি অবৈধভাবে ব্যবহার বন্ধ করা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর কেনা গাড়ি ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ দূর করার উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধসহ তাদের সনদ বাতিল, ভর্তি এবং শিক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *