Home » Top 10 » বড় মঞ্চ তৈরি করলে দেশের ক্ষতি হয়: কাদের

বড় মঞ্চ তৈরি করলে দেশের ক্ষতি হয়: কাদের

বিআরটিসির নতুন ডিপো উদ্বোধন করতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও বিআরটিসির কর্র্মীদের ভর্ৎসনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার রাজধানীর গাবতলীতে বিআরটিসির নতুন ডিপো উদ্বোধন করতে যান মন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে তিনি বড় আকারের একটি বক্তৃতা মঞ্চ দেখতে পান। বিশাল আকারের মঞ্চ দেখে বিরক্ত হয়ে মঞ্চে না গিয়ে সরাসরি নতুন ডিপোর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন তিনি। এরপর নতুন বাসের কাছে গিয়ে উড়ান বেলুন। পরে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন।

বলেন, বড় মঞ্চ তৈরি করলে দেশের ক্ষতি হয়।
মঞ্চে প্রথমদিকে অনেক চেয়ার থাকলেও মন্ত্রী সময় বাঁচাতে কয়েকটি চেয়ার নামিয়ে দেন। রাখা হয় চারটি চেয়ার। এর এক?টিতে বসেন মন্ত্রী। দু’টি চেয়া?রে বসেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান। বক্তব্য দিতে গিয়ে শুরুতেই মন্ত্রী বলেন, উদ্বোধনী ফলক, তারপরে বেলুনটা উড়িয়ে দিলেই তো হয়। এরপর হুজুর একটু দোয়া পড়লেন। আর তো কিছু দরকার নেই। এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান না করলেই ভালো হয়। মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান আসার পর থেকে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে শুরু করেছে। আমার বিশ্বাস, আমার সচিবও একজন সৎ মানুষ। আমি আশা করি, এবার দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানি থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি পাবে বিআরটিসি। 
মন্ত্রীর বক্তব্যের শেষদিকে বকেয়া বেতন চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক পরিবহন কর্মী। তিনি দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, স্যার, আমার মা অসুস্থ, আমি পাঁচ মাস যাবৎ বেতন পাই না। আমার সংসার চলে না। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েক শ’ পরিবহনকর্মী হাততালি দিয়ে সহকর্মীকে সমর্থন জানান। ওবায়দুল কাদের ওই পরিবহনকর্মীর রোদন শুনে বলেন, আমি এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে আমি কখনও রাস্তার রং সাইড ব্যবহার করিনি। দেশের মানুষ যানজট সহ্য করতে পারলে আমি কেন পারবো না? এক ঈদের সময় আমি বাইপাল থেকে চন্দ্রায় গিয়েছিলাম চার ঘণ্টায়। যেখানে রং সাইড ব্যবহার করলে আমি ১৫ মিনিটে যেতে পারতাম। দুদক রাস্তায় নামায় এখন অনেক ভিআইপির টনক নড়েছে। 
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিনিয়ত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করায় তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। নির্বাচন এলেই তারা ভাঙা রেকর্ড বাজায়। রংপুরেও তারা সেই রেকর্ড বাজাচ্ছে। তারা নির্বাচনে হারার আগে একবার হারে, আবার জেতার আগেও একবার হারে। এসব অবান্তর অভিযোগে নির্বাচন নয়, বিএনপির সদিচ্ছা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি বলেন, এর আগে তারা চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে রেজাল্টের আগ পর্যন্ত অবিরাম অভিযোগ করেছিল। গাজীপুর, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও তারা একই অভিযোগ করেছিল। তিনি বলেন, আমি রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোটারদের শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে চাই। সামপ্রতিককালে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় যে রকম নির্বাচন হয়েছিল, রংপুর সিটি করপোরেশনেও একই রকম অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রংপুরের জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *