শিরোনাম
Home » খেলাধুলা » অন্যান্য খেলাধুলা » সবাই আমাকে প্রাণবন্ত মনে করে, কিন্তু…

সবাই আমাকে প্রাণবন্ত মনে করে, কিন্তু…

যুক্তরাষ্টের মহিলা জিমন্যাস্ট দলের চিকিৎসক ল্যারি নাসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সিমোনে বিলস। অলিম্পিকের জিমন্যাস্টিকসে চারবার সোনা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে মার্কিন তরুণী সিমোনে বিলসের। আবেগপ্রবণ এক বিবৃতিতে বিলস বলেন, সে আমার ভালোবাসা ও আনন্দ ছিনিয়ে নিয়েছে।’ 
শিশু ও মহিলা জিমন্যাস্টদের যৌন লাঞ্ছনা ও তাদের ছবি রাখার দায়ে নাসারকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। এ বিষয়ে বিল বলেন, আমি অন্যদের থেকে বেশি নাসারের লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি, যা আমি কখনোই ব্যাখ্যা করতে পারবো না। সাবেক তিন মার্কিন অলিম্পিয়ানও নাসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরমধ্যে ২০১৬’র রিও অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সোনা জেতা গ্যাবি ডগলাসও রয়েছেন।

আরো দুই জিমন্যাস্টিকের সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে চলতি মাসে তাকে দণ্ডিত করা হয়। শিশু নির্যাতনের ফটো তার কম্পিউটারে রাখার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে তিন মেয়াদে নাসারকে সাজা দেন আদালত। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি তার আইনজীবীরা। 
যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিমন বিলস এবং অন্যান্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে হওয়া ঘটনাগুলো সত্যিকার অর্থেই হৃদয় বিচারক ও মর্যাদাহানিকর। পরে টুইটারে বিলস বলেন, আমিই একমাত্র মানুষ, যে অন্যান্যদের চেয়ে নাসারের বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। সবাই আমাকে সুখী ও প্রাণবন্ত মেয়ে মনে করে। কিন্তু কেউ জানে না যে অনেক আগেই আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। তাই এখন আমি সব সময় নিজেকে গুছিয়ে রাখি। তবে এ সকল বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে এখন আর ভয় পাই না। তিনি আরো বলেন, আগের বিষয়গুলো ভুলে থাকা আমার পক্ষে সত্যিকার অর্থেই কঠিন, যা আমার হৃদয়কে চুর্ণ বিচুর্ণ করে দিয়েছে। যেখানে আমি লাঞ্চনার শিকার হয়েছি টোকিও অলিম্পিকের প্রশিক্ষণের জন্য আমাকে সেখানেই যেতে হচ্ছে, যা নিজের মনকে বুঝাতে পারছি না। 
আমার মনের জোর অনেক। আগের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। আর আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, আমি কখনোই হাল ছেড়ে দিবো না। আমি এই খেলা খুব ভালবাসি। তাই সবসময় খেলাটা মন প্রাণ দিয়ে খেলে যেতে চাই। আর আমি কখনোই নাসার ও যারা তাকে সুযোগ করে দিয়েছে তাদের ক্ষমা করবো না। সে এখনো আমার হৃদয়ে আছে এবং থাকবে। ১৯৮০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত যুক্তরাষ্টের মহিলা জিমন্যাস্ট দলের চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন নাসার। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০ জনেরও বেশি মহিলা অ্যাথলেট তার বিরুদ্ধে লাঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *