Home » Top 10 » সৌদি আরবে নারী চালক নিয়োগ করছে উবার ও কারিম

সৌদি আরবে নারী চালক নিয়োগ করছে উবার ও কারিম

সৌদি আরবের রাইড শেয়ারিং অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উবার এবং কারিম দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী চালক নিয়োগ করছে। সমপ্রতি সৌদি আরব নারীদের ওপর থেকে গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে। যা ২০১৮ সালের জুন থেকে কার্যকর হবে। তাই, সে দেশের নারীদের গাড়ি চালানোতে আর কোনো বাধা না থাকায় এখন থেকে নিবন্ধিত নারীরা হতে পারবেন উবার ও কারিমের ড্রাইভার। বর্তমানে উবার এবং কারিমের সব ড্রাইভারই পুরুষ। তারা তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি উবারের মাধ্যমে চালান।

সৌদি আরবের নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া- সে দেশের নারীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই বটে। এতদিন যাতায়াতের জন্য পুরুষ সঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হতো তাদের। যেহেতু একদিকে তাদের নিজেদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না, আবার অন্যদিকে একা একা পুরুষচালিত ট্যাক্সি সেবা গ্রহণ করাটাও ধর্মীয় ভাবধারায় দৃষ্টিকটু দেখায়- তাই যাতায়াতের ব্যাপারে মাঝেমধ্যেই ভোগান্তিতে পড়তেন সৌদি আরবের নারীরা। নারী চালক আসলে তাদের এ ভোগান্তি দূর হবে অনেকখানিই। তারা নিশ্চিন্তে নারী চালকদের ট্যাক্সিসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এটি যেমন তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক, তেমন নিরাপদও। ট্যাক্সি চালনার জন্য ইতিমধ্যেই একশ’র বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৯০ মিনিটব্যাপী ওই প্রশিক্ষণের আওতায় রিয়াদ, জেদ্দা এবং আল খোবারের নারীদেরকে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফরমের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে তা এবং এর নিয়মনীতি সমপর্কে জানানো হয়। প্রাথমিক দিকে চালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে সেইসব সৌদি নারীকে যারা দেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময়ে গাড়ি চালনা শিখেছেন। নারী চালকদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে উবার এবং কারিম। প্রতিষ্ঠান দুটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারী চালকদের গাড়িতে কখনো শুধুমাত্র পুরুষ যাত্রীরা উঠতে পারবেন না। যাত্রীদের হয় নারী হতে হবে, অথবা পুরুষরা কেবলমাত্র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকলেই নারী চালকের গাড়িতে উঠতে পারবেন। এ ছাড়াও, নারী চালকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে (যেহেতু উবার এবং কারিমের মতো রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফরমে চালককে মোবাইলে কল করে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়) নারী চালকদের নম্বর মাস্কিং করে গোপন রাখা হবে। এর ফলে কোনো নারী চালকের ব্যক্তিগত নম্বর অন্য কেউ সংগ্রহ করতে পারবে না। ফলে নারী চালকদের সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার অবকাশ থাকবে না। 
কারিমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ইলয়াস বলেছেন, সৌদি সরকার নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেবার পর থেকেই আমরা নারীদের আমাদের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যেই হাজার হাজার নারী চালক হবার আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করেছেন। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কমপক্ষে দশ হাজার নারী চালক নিয়োগ দেয়া। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের ইতিহাসে নারীদের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন হল। এ প্রসঙ্গে আয়োজিত প্রথম প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া আমানি আলাওয়ামি (২৮) বলেন, কারিমের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়ার প্রথম কারণ হলো- গাড়ি চালানোর প্রয়োজনীয়তা। ছোট কিংবা স্বল্প দূরত্বের যাত্রার জন্যই আমাদের পুরুষ সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। এ ধরনের নতুন সুবিধার কারণে এখন আর তা দরকার হবে না। আরো সহজ হবে জীবনযাত্রা। 
(সিএনএন এ প্রকাশিত নিবন্ধের অবলম্বনে) 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *