শিরোনাম
Home » Top 10 » হার জেনে সুযোগ নিয়েছে সরকার

হার জেনে সুযোগ নিয়েছে সরকার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে হারার ভয়ে সরকার সুযোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার অভিযোগ ডিএনসিসির ভোট বানচাল ইসি ও সরকারের পূর্ব পরিকল্পিত। তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ করে রিট দায়ের, পরদিনই রিটের নিষ্পত্তি ও তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা- সবকিছুর পেছনে রয়েছে সরকারের ইঙ্গিত। ডিএনসিসির নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্ট যখন রিটের নিষ্পত্তি করে তখন মামলার হাজিরা দিতে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে অবস্থান করছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও অবস্থান করছিলেন আদালতে। পরে আলিয়া মাদরাসা মাঠে গণমাধ্যমকে দেয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন।

কারণ তারা কিছু ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এটা আইন অনুযায়ী হয় না। আর সরকার যেহেতু নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানতো, অর্থাৎ তারা হেরে যাবে, তাই তারা সুযোগ নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। 
ওদিকে হাইকোর্ট রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন দলের মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচন বানচাল করা পূর্ব পরিকল্পিত নীলনকশা, এটি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনা। নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই সংক্ষুব্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন। রিজভী আহমেদ বলেন, এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ বছর হওয়ার কথা। তাই ঢাকা সিটিতে বিপুল ভোটে পরাজিত হলে আওয়ামী লীগের জাত-কুল কিছুই থাকবে না। তাই সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন আইনি ত্রুটি রেখে এ তফসিল ঘোষণা করেছে। এটা সরকারেরই নীলনকশার একটা অংশ। রিজভী বলেন, এখন যিনি প্রার্থী হবেন, তিনিও জানেন না তিনি ভোটার কি-না। তাছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে এটা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৫ (৩) উপধারা অনুযায়ী ‘মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে করপোরেশন এই আইনের অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে’। এ আইনমতে, উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড মিলে কাউন্সিলর শতকরা ৭৫ ভাগ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে তো নির্বাচনই হয়নি। তাছাড়া সমপ্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন, তারা কত দিনের জন্য নির্বাচিত হবেন। তারা কি পাঁচ বছরের জন্য হবেন, না আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন- তা নির্ধারণ করেনি কমিশন। এসব ত্রুটির কারণেই সংক্ষুব্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন। 
ওদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। কী সুন্দর খেলা! সরকার যখন বুঝতে পেরেছে যে, উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র উপনির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে, তখন কোর্র্টে নিজেদের লোক দিয়ে রিট করিয়ে নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। হার নিশ্চিত জেনে সরকারের ইঙ্গিতেই সব হয়েছে। তবে আদালতের ওই স্থগিতাদেশের মধ্যেই ‘সরকারের পরাজয়ই প্রতিফলিত হচ্ছে’। সামপ্রতিক সময়ে কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর হারের প্রসঙ্গ টেনে প্রবীণ এ নেতা বলেন, আপনারা দেখেছেন তাদের পরাজয় শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তরের নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনরা যেসব ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন’ পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে- জনগণ ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। এ কারণেই নির্বাচন স্থগিতের পথে গেছে সরকার। ড. মোশাররফ বলেন, আমরা বলতে চাই- আওয়ামী লীগের যে পরাজয় শুরু হয়েছে, তাদের এই পরাজয় একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কেউ রুখতে পারবে না, তা অব্যাহত থাকবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র ও শহীদ জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। সংগঠনের সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, খালেদা ইয়াসমীন ও জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা বক্তব্য দেন। 
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভোট হওয়ার কথা ছিল। মেয়র পদে বিএনপি তাবিথ আউয়াল ও আওয়ামী লীগ আতিকুল ইসলামকে দলের মনোনয়নও দিয়েছিল। তফসিল ঘোষণার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার পৃথক রিট হয়। একটি রিটের আবেদনকারী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও অপর রিট আবেদনকারী হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই ইউপি চেয়ারম্যানের করা রিট আবেদনে হাইকোর্ট গতকাল ডিএনসিসি নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। 
এটা সরকারের ষড়যন্ত্র: জামায়াত 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করায় ডিএনসিসির জনগণসহ দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটা সরকারের একটা পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণায় জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে এটা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। এটিএম মাছুম বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার যখন নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলো যে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে তখনই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হলো। নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ‘নির্বাচনে বাধা নেই’ বলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দিন আহমদের দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এ নেতা বলেন, তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশবাসীর প্রশ্ন তাহলে নির্বাচন কেন স্থগিত ঘোষণা করা হলো? এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন স্থগিত করাটা সরকারের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই এটা করা হয়েছে। জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বর্তমান সরকার ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। ষড়যন্ত্র বন্ধ করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অবিলম্বে ডিএনসিসির নির্বাচন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *