শিরোনাম
Home » শিক্ষা » অন্যান্য » ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহারে দাবিতে ৮৫ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি

ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহারে দাবিতে ৮৫ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি

পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের লেখা বাদ দেয়াসহ নানা অসংগতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৮৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি।

তাদের অভিযোগ, এ বছরের পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সঙ্গে সরকারের আপসরফার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।

অবিলম্বে ভুলে ভরা পাঠ্যবইগুলো প্রত্যাহার ও নবীন শিক্ষার্থীদের সাম্প্রদায়িক ও কূপমণ্ডূক হওয়ার হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান তারা।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি করেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয় বিবৃতিতে।

ইংরেজি বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা অবশ্যই প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া পাঠ্যবইগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে গত কয়েক বছর ধরেই। চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ছাপার ভুল, বানান-তথ্য বিকৃতি নিয়ে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাগুলোকে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে বলে চালানোর চেষ্টা করা হলেও ধীরে ধীরে বের হয়ে এসেছে এসব বিকৃতির পেছনের ঘটনা’।

পশ্চাৎপদ ও মৌলবাদের তোষণনীতির কারণেই পাঠ্যপুস্তকে এই উদ্দেশ্য প্রণোদিত পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। এর পেছনে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে ভয়ানক বিস্তার রয়েছে, তা গত কয়েক বছর ধরেই স্পষ্ট। এ বছরের পাঠ্যপুস্তক সেই সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সঙ্গে সরকারের আপসরফারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে যে ভুল ও তথ্য বিকৃতির ছড়াছড়ি, একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায়, এটি তিন ধরনের। বানান ও তথ্যগত বিকৃতি, বাক্য গঠনে ভুল এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ ঘটানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, এক ও দুই নম্বর ভুলগুলো সঠিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে হচ্ছে। কিন্তু তৃতীয় ভুলটি পরিকল্পিত। যারা করছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই একটি সাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্য এই কাজটি করে চলছেন। শিশুদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিষ এবং তার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে।

পাঠ্যপুস্তকে দলীয়করণ ও তোষামোদী করার অভিযোগ তুলে তারও নিন্দা জানান বিশিষ্ট এই ব্যক্তিরা।

বিবৃতিদাতা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ রফিক, কামাল লোহানী, যতীন সরকার, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হায়াৎ মামুদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, হাসান আজিজুল হক, সনৎ কুমার সাহা, অজয় রায়, সফিউদ্দিন আহমদ, কাজী মদিনা, আবুল মোমেন, রামেন্দু মজুমদার, দ্বিজেন শর্মা, মামুনুর রশিদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কবি আসাদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন প্রমাণিক, অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া, তনুজ কান্তি দে, অধ্যাপক মিজানুর রহমান সেলিমসহ দেশে বিশিষ্ট ৮৫ ব্যাক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *