Home » স্বাস্থ্য » খাবারের গুণাগুণ » সাবধান জর্দা-সাদা পাতায় ক্যানসার

সাবধান জর্দা-সাদা পাতায় ক্যানসার

জর্দা-সাদা পাতা। পানের সঙ্গে অনেকেই খেয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের জন্য সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন চিকিৎসকরা। বলেছেন, এতে মুুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ। যত ধরণের ক্যানসার আছে তার অর্ধেকের বেশি হয় জর্দা-সাদা পাতা ব্যবহারের কারণে। চুন খাওয়ার কারণে খাদ্যনালী ও মুখের ক্ষতি হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন জর্দা-সাদা পাতা পরিত্যাগ করার। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ফুসফুস ক্যানসারের রোগী ধূমপান, পান-জর্দা, সাদা পাতা, গুল ব্যবহারে অভ্যস্ত। নারী ক্যানসার রোগীদের মধ্যে ২০ শতাংশ ধূমপায়ী। হাসপাতালে নিবন্ধিত রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পুরুষদের ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। নারীদের মধ্যেও এ রোগের হার বেড়েই চলেছে। গবেষকরা বলেছেন, তামাক গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুস ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিগারেটে ২৫০টি উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে কমপক্ষে ৭০টি উপাদানের সঙ্গে ক্যানসারের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, জর্দা-সাদা পাতা মুখে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও যদি কেউ তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার করে তাহলে শরীরের অন্যান্য স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। তিনি আরো বলেন, যত ক্যানসার তার অর্ধেকের বেশি হয় জর্দা-সাদা পাতা ব্যবহারে কারণে। চুন খাওয়ার কারণে খাদ্যনালী ও মুখের ক্ষতি হয়। সুতরাং এসব ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক পারভীন শাহিদা আখতার তার এক প্রবন্ধে বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ফুসফুস ক্যানসার আক্রান্ত ৭ হাজার ৪৩০ জন রোগীর ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ফুসফুস ক্যানসারের রোগী ধূমপান, পান-জর্দা, সাদা পাতা, গুল ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন। নারী রোগীদের মধ্যে ২০ শতাংশ ধূমপায়ী। ৬০ শতাংশ পানের সঙ্গে জর্দা, সাদা পাতা, তামাক পাতা, গুল ব্যবহারকারী ও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। হাসপাতালে নিবন্ধিত রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পুরুষদের এক নম্বর ক্যানসার হলো ফুসফুস ক্যানসার। নারীদের মধ্যেও এ রোগের হার বেড়েই চলেছে। ধূমপান বর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপায়ীদেরও এড়িয়ে চলুন। না বলুন পানের সঙ্গে জর্দা, সাদা পাতা ও গুল ব্যবহারকে।
এ বিষয়ে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ইকবাল মাসুদ মানবজমিনকে বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মুখে যে ক্যানসার হয় তার বেশিরভাগ হয় জর্দা-সাদা পাতা ব্যবহারের কারণে। আর তা দিন দিন বাড়ছে। মানুষ যাতে এগুলো বর্জন করে সে জন্য ক্যাম্পেইন করছি। মানুষের কাছে এর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এগুলো ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলে বাংলাদেশ প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রতিবেদনে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিগারেটের ওপর কর আদায়ের ক্ষেত্রে সরকার সিগারেটের মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দেয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। যা বাজার অর্থনীতিতে কাম্য নয়। অর্থমন্ত্রী জানান, বিড়ি-সিগারেটের মতোই আরেকটি ভয়াবহ পণ্য জর্দা ও গুল। জর্দা ও গুলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ পণ্য দুটির ওপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার ৬০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন তিনি।
তামাকে করের চেয়ে চিকিৎসায় ব্যয় বেশি বলে তামাকাবিরোধী সংগঠনগুলো মন্তব্য করেছে। উন্নয়ন টেকসই করতে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে তারা মনে করেন। দেশের ১৬টি তামাকাবিরোধী সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সিগারেট, জর্দা ও গুলের ওপর ৭০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন এ দাবি তুলে এর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *