Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » ওভালে ফখর-আমিরের দাপটে পুনর্জন্ম পাকিস্তানের

ওভালে ফখর-আমিরের দাপটে পুনর্জন্ম পাকিস্তানের

পাকিস্তান ৩৩৮ -৪ভারত ১৫৮ (৩০ .৩ ওভারে ) লন্ডন : কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়৷ জীবনের মতো খেলার দুনিয়াতেও এক নিয়ম৷ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচে গত কয়েক বছর ধরে টানা ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে ভারত৷ কিন্ত্ত মুখোমুখি হলেই ভারত জিতবে , ক্রিকেটের দেবতা এমন নীতিতে বিশ্বাস করেন না৷ তাঁর নীতি খুব পরিষ্কার৷ তুমি রোজ জিততেই পারো , কিন্ত্ত প্রত্যেক বার ভালো খেলে জিততে হবে৷ এখানে কোনও ছাড়াছাড়ি নেই৷ যে কোনও খেলায় ‘বিগ ম্যাচ ’ টেম্পারামেন্ট সাফল্যের সবচেয়ে জরুরি শর্ত৷ প্রত্যাশার অনন্ত চাপ সামলে স্বাভাবিক থেকে যাওয়ার চাহিদা পূরণ করতে পারার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ট্রফি জয়ের প্রাণভোমরা৷ সেখানেই ক্রিকেটের সব ক ’টা বিভাগে বিরাট কোহলির ফেভারিট ভারতকে ল্যাজেগোবরে করে ম্যাচ ও ট্রফি নিয়ে গেল পাকিস্তান৷ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে র্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বর থেকে লাস্ট বয় আর টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন ! আর হ্যাঁ, এটাই ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ান ডে -তে সবচেয়ে বড় জয়৷ ভারতকে হারানোর একটাই ফর্মুলা ছিল এই পাকিস্তানের৷ টপ অর্ডারকে ধাক্কা দাও৷ রোহিত -শিখর -বিরাটের মধ্যে অন্তত দু’জনকে প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে ফেরাও৷ শুরুতে উইকেট পড়লেই মিডল অর্ডার আর চাপটা নিতে পারবে না৷ হলও ঠিক তাই৷ প্রথমে ব্যাটে ফখর জামানের ওই ডাকাবুকো ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব৷ হাতে ৩৩৮ রান৷ তার পরে মহম্মদ আমিরের ওই ম্যাচ জেতানো স্বপ্নের স্পেল৷ শাদাব খানের লেগস্পিন৷ হাসান আলির মাপা লেংথ৷ তাতেই সব শেষ !বিরাট কোহলি নিশ্চয় জিনিয়াস , ভবিষ্যতে বহু ম্যাচ ভারতকে জেতাবেন৷ কিন্ত্ত রোজ রোজ জেতাবেন , এটা হয় না৷ একটা দিন ওই মহম্মদ আমিরেরও হবে৷ যে দিন তাঁর হাত থেকে বেরোবে আনপ্লেয়েবল সব মণি -মুক্তো , যা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়ে আছড়ে পড়বে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যানের অহংয়ে৷ তাঁকে নামিয়ে আনবে বাস্তবের জমিতে৷ যেমন আনল এ দিন৷ প্রথমে বিষাক্ত ইনসুইংয়ে রোহিত , তার পর বিরাট৷ আগের বলটাতেই স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া৷ পরের বলটা আগে খেলতে বাধ্য করা৷ অনে ঘোরাতে গিয়ে ব্যাটের কানায়৷ কভারে সহজ ক্যাচ৷ চার নম্বর ওভারে ৬-২, তার পর ধাওয়ানকে তুলে নেওয়ায় ৯ ওভারে ৩৩ -৩৷ আমিরের প্রথম স্পেলে ৬-২-১৬-৩ , ওখানেই ট্রফি প্রায় ছুঁয়ে ফেলে পাকিস্তান৷ কিন্ত্ত ওভালের যা উইকেট , তখনই ম্যাচ শেষ হওয়ার কথা ছিল না৷ ৩৩ -৩ হলেও নয়৷ একটা টিম হারতেই পারে , কিন্ত্ত তাই বলে এ ভাবে হারবে ? কে ভেবেছিল , মাত্র ৩১ ওভারের মধ্যে গুটিয়ে যাবে চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস ? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হবে সবচেয়ে বেশি রানে হারের রেকর্ড?৩৩ -৩ মানেই হার , তা তো নয়৷ ওভালে এ বার যা উইকেট হয়েছে , কখনওই নয়৷ ধোনি আছেন , যুবরাজ আছেন৷ দু’জনে মিলে প্রায় ছ’শো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা৷ একটা লম্বা জুটি স্বচ্ছন্দে ম্যাচ ঘোরাতে পারত৷ উইকেট তো একেবারে পাটা৷ ক্রিজে থাকলেই রান আসত৷ টুর্নামেন্টে যে দিন মিডল অর্ডারের খেলার কথা , সে দিনই সহজতম উইকেটে দুই মহাতারকা ফ্লপ৷ কেদার ফেরার সময় ৭২ -৬৷ তখনই দেখছিলাম , কাঁধে ব্যাগ নিয়ে শয়ে শয়ে নীল জার্সির মিছিল চলেছে ওভাল স্টেশনের দিকে৷ চোখে -মুখে শূন্যতা৷ এই শোচনীয় হারেও এক ঝলক টাটকা বাতাস হার্দিক পান্ডিয়া৷ হারা ম্যাচে স্মরণীয় লড়াই , এটা কোনও ব্যাখ্যাই নয়৷ ৪৩ বলে ৭৬ , ছ’টা ছক্কা , চারটে বাউন্ডারি৷ ম্যাচ প্রায় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন৷ একটা সময় ম্যাচটা দাঁড়িয়ে যায় পান্ডিয়া বনাম পাকিস্তানে৷ সবে পাক বোলারদের দিশেহারা লাগতে শুরু করেছে , ঠিক সে সময় জাডেজার নির্বুদ্ধিতায় পান্ডিয়া রান আউট৷ আউট হয়ে পান্ডিয়ার ক্ষোভে ফেটে পড়ার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখছি না৷ বলটা মিড উইকেটে ঠেলে জাডেজা কেন না দৌড়ে হাঁ করে বল দেখলেন , তিনিই জানেন৷ ক্ষমাহীন বললেও কিছুই বলা যায় না৷ ওই ছিল ভারতের শেষ সলতে৷ পান্ডিয়া ফেরার পর বাকিটা নিয়মরক্ষা৷ এ দিন হয়তো জেতাতে পারলেন না , কিন্ত্ত পান্ডিয়ার মধ্যে থাকল ভারতের ‘বেন স্টোকস ’ হওয়ার প্রতিশ্রীতি৷ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ভারতকে দিল এক প্রতিশ্রীতিমান ম্যাচ উইনার৷ হার্দিক৷

সুত্রঃ এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *