Home » স্বাস্থ্য » খাবারের গুণাগুণ » অদ্ভুত খাদ্যভ্যাস (ভিডিওসহ)

অদ্ভুত খাদ্যভ্যাস (ভিডিওসহ)

ভারতের উত্তরাখন্ডের কৃষক কমলেশ্বর (৪৫)। অদ্ভুত এক খাদ্যভ্যাস গড়ে তুলেছেন তিনি। ১৭ বছর যাবত তিনি মাটি দিয়ে তৈরি বল খাচ্ছেন। রুটি বা চাপাতির সঙ্গে কোনো তরকারি, মাছ বা মাংস নয় এই মাটির বলই তার খাদ্য। এতে তার শারীরিক কোনো সমস্যা হয় না বলে জানিয়েছেন। এই মাটির বল বানানোর জন্য উপযুক্ত মাটি খুঁজে ফেলেন তিনি প্রতিদিন। কয়েক ঘন্টা কেটে যায় এমন মাটি পেতে। তারপর ওই মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে ছোট ছোট বলের আকৃতি দেন, যা দেখতে এক রকম চকোলেটের মতো। এরপর ইট ভেঙে তার গুঁড়ো দিয়ে লাল প্রলেপ দেন ওই বলের ওপর। এভাবে তৈরি বল দিয়ে তিনি রুটি বা চাপাতি খান। দিনে তিনি কমপক্ষে ৫০০ গ্রাম বা আধা কেজি মাটির বল খান। কমলেশ্বর বলেন, আমি মাটি ও ইট ভালবাসি। চাপাতির সঙ্গে আমি অন্য কিছুই খাই না। অন্য কিছুই আমার ক্ষুধা নিবারণে সন্তুষ্টি দিতে পারে না। আমি শাকসবজি, তরকারি, মাছ মাংস খাই না। তার এমন খাদ্যভ্যাসকে বলা হয় পিকা জাতীয় ডিজঅর্ডার। এতে যেসব খাদ্য খাওয়া হয় তাতে কোনো পুষ্টিগুণ নেই। এ রকম মানুষ পাথর, বালু, রং, ময়লা খায়। এতে তাদের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কমলেশ্বরের বাড়ি উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে। তার মধ্যে প্রথম এ অভ্যাস গড়ে ওঠে ২৮ বছর বয়সে। ওই সময় তার মুখে রক্ত বের হতো। এতে ভীষণ ব্যথা হতো, যা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। কমলেশ্বর বলেন, ১৭ বছর ধরে আমি মাটি ও ইটের জিনিসপত্র খাই। এ অভ্যাস আমার গড়ে ওঠে ২৮ বছর বয়সে। আর এখন তো এটা আমার জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এতে আমি কোনো অসুস্থতা বোধ করি না। প্রায় ২০ বছর আগে আমার মুখে রক্ত আসতো। ভীষণ ব্যথা হতো তখন। ওই সময় আমি কয়েকজন ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তাদের চিকিৎসায় কোনো কাজ হলো না। একদিন অসহনীয় যন্ত্রণা হলো। হঠাৎ করে আমি মাটি খেলাম। বিস্ময়করভাবে ব্যথা অনেক কমে গেল। তারপর থেকে কয়েক সপ্তাহ মাটি খেলাম। কিছুদিন পরে বুঝতে পারলাম আমার মুখের সেই রোগ সেরে গেছে। মুখ থেকে আর রক্ত বের হচ্ছে না। তারপর থেকে এসবই খেয়ে যাচ্ছি। এতে আমার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে না। আমার দাঁতগুলো ভাল আছে। মাটি খাওয়া বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। আমি খাদ্য খাওয়া বাদ দিতে পারি। কিন্তু মাটি খাওয়া বাদ দিতে পারবো না।
  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *