Home » Top 10 » বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা চায় ন্যাপ

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা চায় ন্যাপ

সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব প্রস্তাব করে দলটি। নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। দলটির লিখিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনের পূর্বে ও পরে একটি নির্দিষ্ট সময়কালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। এই সময়ে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ও কর্তব্যে অবহেলার জন্য নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে এবং সরকার তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। সেই সঙ্গে একান্ত প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ করতে পারে, তবে তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে দলটি প্রস্তাব করেছে। ওয়ার্কার্স পার্টির অন্যান্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- আগামী নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা, ব্যালটের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গ্রহণের শর্ত বাতিল করা, নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা, জামানত ২০ হাজারের পরিবর্তে ১০ হাজার করা, নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও পেশি শক্তি মুক্ত করা, নির্বাচনে ধর্ম ও সামপ্রদায়িকতার ব্যবহার বন্ধ করা; নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। পরে বিকাল তিনটায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। প্রার্থীদের হলফনামা এনবিআর ও দুদকের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছে ন্যাপ। এ ছাড়া সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধাগুলো চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিসহ মোট ১৬টি  সুপারিশ করেছে দলটি। দলের সভাপতি আমেনা আহমেদের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে উপস্থিত ছিলেন। দলটির লিখিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সব দল এবং প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নির্বাচনের এখতিয়ার ইসির। এ বিষয়টি অহেতুক বিতর্ক জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী দল বা ব্যক্তি যেন কোনোভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারে সে জন্য আইনের সংস্কার করা, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটে ব্যবস্থা এবং নারী আসনে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা, ইসির উদ্যোগে প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা করা, মাস্তানির দৌরাত্ম্য এবং টাকার অপব্যবহার বন্ধে আইন সংস্কার করা, ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, নির্বাচনে না ভোট রাখা, আগামী নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা। ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪শে আগস্ট থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ পর্যন্ত ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। এর আগে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *