মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সব থেকে পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী। তাদের হাতে চিরাচরিত অস্ত্রের যে ভাণ্ডার আছে, তা অন্য যে কোনো দেশের থেকে বেশি। তবে মার্কিন বাহিনী এখনও বেশি নির্ভর করে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে, এমন ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপরে।
এগুলি আবার কম সংখ্যায় বানানো হয়। ট্রাম্প এসপ্তাহের শেষের দিকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছেন। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তাদের ওপরে চাপ তৈরি করা হতে পারে। এর থেকে বোঝা যায় যে, আমেরিকার অস্ত্র ভাণ্ডার টান পড়ছে।
তবে আমেরিকা এখন স্বল্পদূরত্বে হামলা চালানোর জন্য কিছুটা সুবিধা পেয়েছে বলে তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরে কিছুটা চাপ কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেইন বলেছেন যে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো দামি আর অত্যাধুনিক লম্বা দূরত্বের ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহারের পর্যায় থেকে এগিয়ে গেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এখন তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের জেডিএএম বোমার মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলি লক্ষ্যবস্তুর ওপরে সরাসরি নিক্ষেপ করা যায়।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন যে, অনেক দূর থেকে প্রাথমিক হামলা চালানোর পরে যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম দামি ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলছেন যে, এভাবে চললে যুক্তরাষ্ট্র “প্রায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য” যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। যত বেশি দিন যুদ্ধ গড়াবে, লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও ছোট হয়ে আসবে, অর্থাৎ যুদ্ধের মাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
মার্ক ক্যানশিয়ান বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাজার হাজার জেডিএএম বোমা আছে, তবে বহুমূল্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ কম। সংঘাতের গোড়ার দিকে সেগুলো ব্যবহার করা জরুরি ছিল, যাতে ইরানের জবাবি হামলার ঝুঁকি প্রতিহত করা যায়।
‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা খুবই বেশি ছিল – শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নয়, তার আরব-মিত্র দেশ এবং ইউক্রেনেরও চাহিদা ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিটা প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম পড়ে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি।
মনে করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় সাতশোটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারে। ইরানের পক্ষে যদি এখনও ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করার ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে এই সীমিতসংখ্যক প্যাট্রিয়টের মজুদেও টান পড়বে।
সিএসআইএসের বিশেষজ্ঞ মি. ক্যানশিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল আছে। এই সংখ্যাটা সম্প্রতি কমে এসেছে। তিনি বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিমান থেকে ভূমিতে যুদ্ধ ‘দীর্ঘ সময়’ ধরে চালাতে পারে, তাহলে বিমান প্রতিরোধের লড়াই ‘আরও অনিশ্চিত’ হয়ে পড়বে।
“যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যাট্রিয়টের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলতে চান, তাহলে আমার মতে ইরানিদের পরাস্ত করতে পারব আমরা – তবে সেক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যদি কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তখন সমস্যা তৈরি হবে,” বলছিলেন মি. ক্যানশিয়ান।
তবে অস্ত্রের মজুত নিয়ে যে একটা চিন্তা আছে, সেটা স্পষ্ট, কারণ ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন, “ইরান আমাদের মজুত শেষ করিয়ে দিতে পারবে না।”
এই কথাটা তিনি সম্ভবত সঠিকই বলেছেন। সূত্র: বিবিসি
