সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর আরও আগ্রাসী আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান। দীর্ঘকাল শান্ত থাকা এই অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাতের ফলে এখন একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দোহায় অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ সকালে শহরের দক্ষিণ দিকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে এবং বেশ কয়েকটি বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
এর কিছু সময় পরই দুবাইয়ের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সাদা ধোঁয়া এবং জাবেল আলী বন্দরের ওপর কালো ধোঁয়া দেখা যায়। মানামাতেও অন্তত চারটি বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শনিবার ইরান একযোগে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যা দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এবং বুর্জ আল-আরব সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আবু ধাবি বিমানবন্দরে একটি হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘মহা অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক টেলিভিশন ভাষণে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল তাদের সীমা অতিক্রম করেছে এবং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান এমন বিধ্বংসী আঘাত হানবে যা শত্রুকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করবে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান পাল্টা আঘাত চালিয়ে যায় তবে তাদের ওপর এমন শক্তি প্রয়োগ করা হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আজ ভোরে পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। শনিবার থেকে ইরানে এই হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন যার মধ্যে মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় ১৪৮ জন নিহতের ঘটনাও রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের তেল নাফ বিমানঘাঁটি এবং তেল আবিবে অবস্থিত সামরিক সদর দপ্তরসহ মোট ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশটির শাসনভার পরিচালনার জন্য একটি তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
