জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিবারের সদস্য ও সহযোদ্ধারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগমসহ সহযোদ্ধারা।
এ ছাড়া তারা রায় পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আবু সাঈদের বাবার মকবুল হোসেন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আদালত কনস্টেবলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু গুলি করার জন্য উপর লেভেলের অফিসাররা নিদের্শনা দিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ভালো করে তদন্ত করতে হবে। মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমার ছেলেদের সাথে পরামর্শ করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলের সঠিক বিচার হইনি। আরও মৃত্যুদণ্ড দিলো না কেন, এটি আমার দাবি। এজন্য আমার অন্তর ঠাণ্ডা হয়নি, মন অসন্তুষ্ট।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, এ রায়ে ১১ জুলাই, ১২ জুলাই ও ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের উপর যেসব আসামিরা হামলা চালিয়েছে তাদের কম সাজা দেয়া হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় ঘোষণা হয়নি। বিজ্ঞ আদালত এটি আমলে নেবে ও রায় পুনঃবিবেচনা করবে প্রত্যাশা করছি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে গুরুতর অপরাধ করা আসামিদের লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে। যাদের লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে, নিশ্চই তাদের বিষয়ে আদালত চিন্তা করবে বলে প্রত্যাশা করছি। রায়ে যাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, তাদের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া অভ্যুত্থানের সময় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে, তার শাস্তি কম দেয়া হয়েছে।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা আশিকুর রহমান আশিক বলেন, আমাদের দুঃখের সাথে জানাতে হয় যে, এটি ছিল স্পষ্ট পুলিশী হত্যাকাণ্ড। পুলিশের এসি ইমরান শিক্ষার্থীদের উপর ঢিল ছুড়েছিল, হামলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। আশা করছি আদালত এ বিষয়টি বিবেচনায় আনবে।
