মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ছাড়া অন্য সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছে ইরান।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তার সেই আহ্বানে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তেমন সাড়া দেয়নি কেউ। কোনও দেশ সরাসরি এখনও জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে যুক্তরাজ্য ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। দেশটি হরমুজ চালু করতে বিকল্প কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবছে। ফ্রান্স, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চীন হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। চীন সব পক্ষকে শত্রুতা এড়িয়ে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। রবিবার ইসরায়েলে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে তোলা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব তার কাছে পৌঁছেছে। তবে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের ব্যাপারে শতভাগ সংহতির কথা নেই। মার্কিন এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হবে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি নাইন-ইলেভেন ঘটিয়ে ইরানকে দোষারোপ করতে চায়। ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর একটি ট্যাংকারে তেল লোড করতে দেখা গেছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কাতার ও সাইপ্রাসে টাইফুন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
আল-জাজিরা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই অবস্থায় ইসরায়েল সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ৮২৭ মিলিয়ন ডলারের জরুরি বাজেট অনুমোদন করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসার খবরকে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
