গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। সেই শোক পালনে বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তেহরানে জনতার ঢল নেমেছে। এই শোকসভা থেকে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে অটল প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরানের বিপ্লবী জনতা।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের শোক মিছিলগুলো জোমহুরি স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে খামেনি হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসব শোকমিছিল বিপ্লবী পথের প্রতি জনতার আনুগত্যের গর্জনময় ঘোষণা এবং শত্রুপক্ষের নৃশংসতার তীব্র নিন্দায় পরিণত হয়। তেহরানের এসব শোকযাত্রায় শোকাহত মানুষ স্লোগান দেয়, শোকগাথা পাঠ করে এবং তার বিপ্লবী আদর্শের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের উসকানিহীন আগ্রাসন শুধু ইরানের নেতৃত্বই নয় বরং বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। এর মধ্যে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধ্বংসী হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্থাপনাগুলোর ওপর ১০০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা শত্রুপক্ষকে অপমানজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য করে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করার পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনএসসি) এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যা সংঘাতের সাময়িক অবসান নির্দেশ করে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাত তার জীবদ্দশার নেতৃত্বের মতোই ইসলামী বিপ্লবকে আরও শক্তিশালী করেছে। জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে শত আঘাতকে তারা তার ত্যাগের ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে।

আইআরজিসি আরও জানায়, তার উত্তরাধিকার প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আধ্যাত্মিকতার একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে ইরানের শাসনব্যবস্থার পথপ্রদর্শক হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here