যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনো দেশের উপর ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা পশ্চিমা দেশগুলোর ‘কালোবাজি’ এবং তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিমা দেশের ইরানের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সাধারণ ইরানিদের উপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার বোঝা চাপাচ্ছে।
জাখারোভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ বাহ্যিক শক্তি সামাজিক উত্তেজনা কাজে লাগিয়ে ইরানকে অস্থিতিশীল এবং ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। কুখ্যাত ‘কালার রেভ্যুলিউশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আনাদোলু এজেন্সি। তিনি আরও বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। ইরানি সরকার সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে বাধ্য এবং শত্রুতাপূর্ণ পশ্চিমা নীতির নেতিবাচক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিরসনের কার্যকর উপায় খুঁজছে।
মারিয়া জাখারোভা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার হুমকিকেও ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, ইরানের বৈদেশিক অংশীদারদের ওপর উচ্চ শুল্ক চাপিয়ে কালোবাজি করার যে সাহসী চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা তাও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।
সোমবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলেই তাদের বিরুদ্ধে ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানে গত মাস থেকে বৃহৎ বিক্ষোভ চলছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক অবনতির কারণে এবং রিয়ালের ঐতিহাসিক অবমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ‘সশস্ত্র বিশৃঙ্খলাকারী’ সমর্থন দেয়ার অভিযোগ করেছে।




