গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা এবং সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুদ্ধের আগে ইরান বহুবার সতর্ক করে বলেছে, তেহরানের ওপর হামলা হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর মূল্য পুরো বিশ্বকেই দিতে হবে।
ইরানের থিংক ট্যাংক ডিপ্লোহাউস-এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। পূর্বে ইরান সতর্ক করে বলেছে—দেশটির ওপর যেকোনো হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেহরান থেকে গোলামজাদে বলেন, তবে ইরানের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ইরানে হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি বিশ্বের অন্য অংশগুলোও প্রভাবিত হবে। বাস্তবতা হলো, এখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আক্রান্ত ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
গোলামজাদে বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তার ভাষায়, ইরানের নিরাপত্তা মানেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, এবং এর উল্টোটাও সত্য।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা মানে বৈশ্বিক অর্থনীতির নিরাপত্তাও। এটা সেই বাস্তবতা, যা পুরো বিশ্বকে বুঝতে হবে। গোলামজাদে সতর্ক করে বলেন, ইরান আক্রান্ত হলে তার মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যেকোনো পরিণতির ভোগান্তি বিশ্বকে সহ্য করতে হবে।




