News Times BD

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলের প্রস্তুতি

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এজন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় ১০৫টি কোচ (বগি) মেরামত করার কাজ চলছে। ঈদযাত্রার আগে শেষ হবে এসব বগির মেরামত কাজ। তবে এবার ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকট। দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রীসেবা। এই সংকটের কারণে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা আশা করি দ্রুত সময়ে এই ইঞ্জিন সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কারখানার ব্যবস্থাপক রাজীব দেবনাথ বলেন, ১০৫টি কোচ মেরামতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি কোচের মেরামত কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট  কোচগুলোর কাজও আমাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। কোচগুলোর মেরামত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর তা আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বুঝিয়ে দেব। এরপর সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনে যুক্ত করা হবে।

পাহাড়তলী কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো বগিগুলো মেরামতের কাজ করছেন শ্রমিকরা। যেসব কোচের মেরামতের কাজ শেষ হচ্ছে তা সঙ্গে সঙ্গে অপর গ্রুপের শ্রমিকরা নিয়ে যাচ্ছেন। তারা সেই বগিতে রঙের কাজ করছেন, আরেক গ্রুপের শ্রমিকরা ইলেকট্রিকের কাজ করছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে কারখানার বিভিন্ন শপের শ্রমিক কর্মচারীদের ব্যস্ততা তত বাড়ছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোনো বগিগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেন কারখানার শ্রমিকরা। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে অবশিষ্ট কোচগুলোর মেরামত প্রক্রিয়া শেষ করে রেলওয়ে পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  রেলওয়ের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর কারখানায় পুরোনো সব বগি মেরামত করা হয়। এসব বগি ঈদের সময় প্রতিটি ট্রেনে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কোচ হিসেবে যুক্ত করা হয়। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপের কারণে প্রতিটি ট্রেনে ৪ থেকে ৫টি করে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়ে থাকে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ইঞ্জিন সংকট। গত বছরের মতো এবারের ঈদযাত্রায় পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৯০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হবে। তবে কয়টি পাওয়া যায় তার ওপর নির্ভর করছে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার বিষয়টি। ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রতিদিন ট্রেন চলাচলে বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) চাহিদা থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫টি ইঞ্জিন পাওয়া যায়। তবে ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ওসব ইঞ্জিন পাওয়ার কারণে সে সংকট কিছুটা কমে আসবে। তবে এবারের ঈদে কতটি ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে তা এখনো রেলওয়ে থেকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, রেলভবনে এ বিষয়ে মিটিং চলছে। মিটিং শেষে নির্দেশনা পেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে রেলের বহরে মোট ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৭টি। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। এরই মধ্যে রেলওয়ের ৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়েছে।

Exit mobile version