তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যখন তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে নিজেদের ‘অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে, ঠিক তখনই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও এই সৈন্য সংখ্যা ২০০৩ সালের তুলনায় কিছুটা কম, তবে গত দুই দশকের মধ্যে এটিই ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তি প্রদর্শন।

 

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির নিয়ম মেনে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে দাবি করে ইরানের পরমাণু শক্তি প্রধান মোহাম্মদ এসলামি জানিয়েছেন, কোনো দেশই তাদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওমান ও জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে চলা আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও ইরান এই আলোচনাকে ইতিবাচক বলেছে, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা একে গুরুত্বহীন বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। জর্ডান ও সৌদি আরবের বিমানঘাঁটিগুলোতে এফ-১৬, এফ-১৫ এবং এফ-৩৫ এর মতো বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান ছাড়াও পারস্য উপসাগরে অবস্থান নিয়েছে ১৩টি যুদ্ধজাহাজ। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল প্রস্তুতি নির্দেশ করে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করছে। এর মধ্যেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও রাশিয়ার নৌবাহিনী যৌথ মহড়া সম্পন্ন করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আঞ্চলিক এই অস্থিতিশীলতার মধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইরানে অবস্থানরত তার দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো সংঘাত শুরু হলে সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই নিরাপত্তা শঙ্কায় জার্মানি উত্তর ইরাকের এরবিল ঘাঁটি থেকে তাদের অধিকাংশ সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন ২০০৩ সালের পরবর্তী সবচাইতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here