News Times BD

এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক-এর এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কে চলমান নির্মাণকাজের কারণে আসন্ন ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে আন্ডারপাস এবং এলেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি যমুনা সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব কারণে ঈদের সময় ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

 

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দরপত্রের মাধ্যমে মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ পায় আব্দুল মোনেম লিমিটেড। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের মার্চে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলছে এবং কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে।

এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক মফিজ ও আব্দুল আলিম জানান, দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকায় দিন-রাত কাজ চলছে।

উত্তরবঙ্গগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক শওকত হোসেন বলেন, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। নির্মাণকাজের কারণে মাঝেমধ্যে যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত কাজ শেষ হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মোমেন, আল আমিন ও রুমনসহ অনেকেই বলেন, এলেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় এ অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়।

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাত্রী আরাফাত রহমান বলেন, প্রতিবছর ঈদে বাড়ি ফেরার সময় এই মহাসড়কে যানজটে পড়তে হয়। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। ঈদযাত্রার সময় উত্তরবঙ্গগামী সার্ভিস লেন খুলে দেওয়া হবে এবং বিকল্প সড়কের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে যানবাহন চার লেনের সুবিধা পায়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং ডাকাতি প্রতিরোধে টহল জোরদার করা হবে। এছাড়া ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে যাত্রীবাহী বাস ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল সীমিত করা হবে বলে তিনি জানান।

Exit mobile version