নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) তহবিল থেকে ৪ লাখ টাকা তছরুপের ঘটনায় সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে শোকজ করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। গত ১ জুন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে যে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কৃষিবিদ তাহমিদ রিজভী নামের এক ব্যক্তিকে কেআইবি তহবিলের নগদ ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন সহকারী ব্যবস্থাপক, যা মূলত প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে নাম জড়িয়েছে পেশাজীবী কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) সদস্য সচিব ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লবসহ আরও বেশ কয়েকজনের।
কেআইবি’র বর্তমান প্রশাসক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে আপনি দিলিপ কুমার সরকার সহকারী ব্যবস্থাপক হিসাব বিভাগ (কেআইবি) কমপ্লেক্স, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কেআইবি’র তহবিল থেকে ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ টাকা) জনৈক রিজভী সাহেবকে প্রদান করেছেন। আপনি কেআইবি’র একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী হিসেবে কীভাবে এতগুলো টাকা কেআইবির ব্যাংক হিসাবে জমা না করে নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন এবং অনৈতিকভাবে অন্যকে লাভবান এবং নিজে লাভবান হওয়ার জন্য অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অবহেলা করেছেন।’
যোগ করে আরও বলা হয়, ‘আপনার (দিলিপ কুমার সরকার) এ রূপ কার্যকলাপ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর চাকুরিবিধি পরিপন্থী।’
শোকজ নোটিশে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে চাকরিবিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দিলিপ কুমার সরকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি দাবি করছেন, সম্প্রতি পেশাজীবী কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব’র সদস্য সচিব ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে একটি গোপন মিটিং হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ নূরুন নবী ভূইয়া শ্যামল, কৃষিবিদ টিপু, কৃষিবিদ কে আই এফ সবুর, কৃষিবিদ আশরাফ, কৃষিবিদ আমান সহ আরও অনেকে। সেখান থেকেই মূলত সিদ্ধান্ত হয় যে, কোনো একটি গোপন নীলনকশা বাস্তবায়নে কৃষিবিদ তাহমিদ রিজভীকে টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি এতে হাবিব নামে আরও একজনের কথা উঠে এসেছে।
কেআইবি’র সহকারী ব্যবস্থাপকের দাবি, রিকুইজিশন পাওয়া মাত্র যদি উল্লেখিত ওই চক্রকে টাকা না দেওয়া হয়, তবে তাঁকে চাকরি থেকে তাঁরা বহিস্কার করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আর সেই প্রেক্ষিতে তিন দফায় তাহমিদ রিজভীকে চার লাখ টাকা প্রদান করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এরইমধ্যে কেআইবি’র এই টাকা তছরুপের ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ কৃষিবিদরা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
