যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। ইরান বলছে, তাদের লক্ষ্য মার্কিন স্থাপনা। তবে এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে দোহা বলছে, তেহরানের হামলায় বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়-ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদে চালানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে নয়।
তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে হামলাগুলো কাতার রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বেসামরিক ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাসমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলও রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফোনালাপে শেখ মোহাম্মদ আরও বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করে না; বরং এটি উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধে টেনে আনার প্রচেষ্টা, যা তাদের নয়। তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপে প্রতিবেশীদের প্রতি ইরানের কোনো সদিচ্ছার প্রকাশ নেই।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কাতার কূটনীতিকে সমর্থন করে; তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা জাতীয় স্বার্থে আঘাত এলে যে কোনো আগ্রাসনের মোকাবিলা করা হবে। আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে এসব হামলা জবাববিহীন থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাতার।



