নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করার অভিযোগ নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এনসিপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ওই গৃহবধূ মারামারির সময় আহত হয়ে দুই দফায় হাসপাতালে ভর্তি হন। শেষ দফায় দাবি করা হয়, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এই ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, ওই গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে এসে বলেন, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একইভাবে বিএনপি নেতারাও দাবি করেছেন, ওই নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের নাটক  সাজিয়ে বিএনপির সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘আমরা চাই আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হোক। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে একটি মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে, তবে এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে মব কালচার, অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা ব্যক্তিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক অপরাধ নয়, এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এমন অপকৌশল প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, বিশেষ করে শিবির, রাজাকার চক্র, জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী ও এনসিপিকে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসেন এক গৃহবধূসহ কয়েকজন। এর তিন ঘণ্টা পর বিকাল ৫টায় ওই গৃহবধূই পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে বলেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে। তাতে জানা যায়, ওই স্থানে দুই দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই নারীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রেও রয়েছে নানা গরমিল।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, একই নারীর দুই দফায় দুই ঘটনায় ভর্তির বিষয়টি ধূম্রজাল তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি এবং নারীর শারীরিক পরীক্ষাও হয়নি। এর আগে সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here