কুয়েতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক রহস্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের ভুলবশত গুলিবর্ষণের ফল হিসেবে) দাবি করা হলেও এই ব্যাখ্যার পেছনে অনেকগুলো প্রযুক্তিগত অসংগতি ধরা পড়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য গত সোমবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি। যদিও বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে আসলে কারা ছিল তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পেন্টাগনের দাপ্তরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলেই বিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছে। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তবচিত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিমানগুলোর ইঞ্জিনে আঘাত করা হয়েছে, যা সাধারণত তাপ-অনুসন্ধানী বা হিট-সিকিং মিসাইলের কাজ। অথচ কুয়েতের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট কিংবা নাসামসের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো রাডার-গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে। প্যাট্রিয়ট মিসাইলের আঘাত থেকে কোনো পাইলটের বেঁচে ফেরার নজির এর আগে দেখা যায়নি কিন্তু এই ঘটনায় সকল ক্রু অক্ষত থাকায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে মার্কিন দাবির কোনো সরাসরি সমর্থন দেয়নি। তারা জানিয়েছে, সেই সময় আকাশে বেশ কিছু ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ উপস্থিত ছিল এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েতিদের এই অবস্থান মার্কিন সেন্টকমের ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। একই সময়ে ওই অঞ্চলে ইরানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির কথা মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে, যা এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে যে বিমানগুলো আসলে কোনো বিদেশি শক্তির হামলার শিকার হয়েছে কি না।
ইরান ইতিমধ্যেই এই ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। তেহরানে অবস্থিত খাতাম আল-আম্বিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি অনুপ্রবেশকারী মার্কিন এফ-১৫ বিমানকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। যদিও তারা একটি বিমানের কথা বলছে, কিন্তু তিনটি বিমান একই দিনে হারানো মার্কিন সামরিক শক্তির জন্য এক বড় ধাক্কা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের হাতে থাকা স্বল্প পাল্লার আর-৭৩ বা আর-৭৪ এর মতো হিট-সিকিং মিসাইল দিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়ে থাকতে পারে, যা বিধ্বস্ত বিমানের ইঞ্জিনের জখমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যুদ্ধের ময়দানে সত্য অনেক সময় কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে এবং সামরিক বাহিনীগুলো প্রায়শই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তথ্যের হেরফের করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ঘটনাটি উভয় সংকটের মতো; হয় তারা তাদের মিত্রদের সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে এই বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, নয়তো তাদের তথাকথিত ‘দুর্বল’ শত্রুর হাতে চরম অপদস্থ হয়েছে।
সূত্র: আরটি
