জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঘিরে চলছে নানান সমীকরণ। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যানারে হেফাজতের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা অংশ নিলেও বাইরে রয়েছে বড় একটি অংশ। এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকাসহ কমপক্ষে ৪০টি আসনে হেফাজতের সমর্থক ও কওমি আলেমদের প্রভাব জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। তাই বৃহৎ এ ভোটব্যাংককে কাছে টানার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দুই জোট।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং শীর্ষ নেতারা হেফাজতে ইসলামের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এ নির্দেশের বাইরে যাবেন না। তাই বলা যায়- আমিরের নির্দেশিত পথেই যাবে হেফাজতে ইসলামের ভোটব্যাংক।’
তবে হেফাজতে ইসলামের আরেক যুগ্ম মহাসচিব ও ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মনির বলেন, ‘হেফাজতের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ১১-দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে। কোথাও কোথাও জোটের নেতারা নির্বাচনও করছেন। তাই এবার ভোট বিপ্লব হবে।’ হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান- দেশে কওমি কিংবা হেফাজতে ইসলাম মতাদর্শী ভোট রয়েছে ৬ থেকে ৭ শতাংশ। যার সিংহভাগই হচ্ছে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা অঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০টি, সিলেট বিভাগে এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০টি করে আসনে জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখবে তারা। তাই ওই সব আসনের প্রার্থীরা বিশাল এ ভোটব্যাংককে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জানা যায়, এবারের সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করা আলোচিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ সংগঠনে সম্পৃক্ত একটি অংশ জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা হলেন নীলফামারী-১ আসনে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব এবং যশোর-৫-এ মুফতি রশিদ ওয়াক্কাস।
জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- নায়েবে আমির আহমেদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা নাছির উদ্দিন মনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মাওলানা জালাল আহমেদ। এ দুই জোটের হয়ে নির্বাচন করা নেতারা হেফাজতে ইসলামের ভোটব্যাংকে নিজ নিজ জোটে টানতে কাজ করছেন।
নির্বাচনের বাইরে থাকা একটি অংশ আবার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছে। এ পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি ফটিকছড়ি আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জায়ামাতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘হারাম’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতবিরোধী এ জোটে হেফাজতে ইসলামের আমিরসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন।
