পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ৪ঠা জানুয়ারি চীন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম কৌশলগত সংলাপের সহ-সভাপতিত্ব করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দু’দেশ যখন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এর মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং সেন্ট্রাল কমিশন ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্সের কার্যালয়ের পরিচালক। তার আমন্ত্রণে ইসহাক দার এ সফরে যাচ্ছেন। সংলাপটি বেইজিংয়ে হবে এবং এটিকে দু’দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন স্বার্থ।
সংলাপ চলাকালে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৬ সালে পাকিস্তান-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন উদ্যোগ ও স্মারক কর্মসূচি ঘোষণারও সম্ভাবনা রয়েছে, যা দীর্ঘ দশক ধরে গভীরতর হওয়া অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যে বলা হয়েছে, এই সফর পাকিস্তান ও চীনের নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সর্বকালীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাকিস্তান ও চীন ১৯৫১ সালের মে মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ফলে চীনকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল পাকিস্তান। এরপর থেকে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক আস্থা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সম্পর্কটি একটি সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয়। সরকার পালাবদল, আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস- সবকিছুর মধ্যেই এই সম্পর্ক স্থিতিশীল থেকেছে। দু’দেশই পরস্পরকে প্রায়শই ‘আয়রন ব্রাদারস’ হিসেবে অভিহিত করে। কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের মূল স্বার্থের ইস্যুতে বেইজিং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। অপরদিকে চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে ইসলামাবাদ থেকেও সমর্থন পাওয়া গেছে।
গত এক দশকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উভয় সরকার সিপিইসিকে উচ্চমানের উন্নয়ন পর্যায়ে নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে শিল্পায়ন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।




