চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালি আবারও বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মঙ্গলবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের।
২০১৪ সালের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপে—২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬ ইতালি অংশগ্রহণ করতে পারলো না। এক সময়ে পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এবং গিয়ানলুইগি বুফোঁরা’র মতো কিংবদন্তিরা দাপট দেখিয়েছেন দলটিতে। সেই ঐতিহ্যবাহী আজ্জুরিরা এখন স্পষ্ট সংকটে।
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় ইতালিকে চাপে রাখে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। শারীরিকভাবে দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী ফুটবলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে ইতালি। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানোই বড় সমস্যা, যেখানে একসময় জেনারো গাত্তুসো এবং আন্দ্রে পিরলো’র আধিপত্য ছিল।
একসময় ইতালি থেকে নিয়মিত বিশ্বমানের প্রতিভা বের হত, কিন্তু এখন এই ধারা ভেঙে গেছে। সিরি এ-র ক্লাবগুলো তরুণদের বদলে অভিজ্ঞ বা বিদেশি খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করছে। ফলে নতুন প্রতিভারা পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না। স্টেডিয়াম ও আধুনিক ফুটবল একাডেমিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতালি অনেকটাই পিছিয়ে।
রক্ষণাত্মক ফুটবলের ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আধুনিক আক্রমণাত্মক খেলায় মানিয়ে নিতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে দল। নির্দিষ্ট কৌশল ধরে রাখতে না পারায় ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধেও আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং বয়স্ক খেলোয়াড়দের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আধুনিক ফুটবলে গতি ও ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
বর্তমান প্রজন্মের মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালি খেলেন ইংল্যান্ডের ক্লাব নিউক্যাসলে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইতিহাস নেই। আলেসান্দ্রো বাস্তোনির মতো প্রতিভা থাকলেও বড় ম্যাচে তারা পর্যাপ্ত প্রভাব ফেলতে পারছে না। জাতীয় দলে স্ট্রাইকারের অভাবও চোখে পড়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য বড় লিগের তুলনায় ইতালির ক্লাব ফুটবল আর্থিকভাবে পিছিয়ে। টিভি রাইটস ও বাণিজ্যিক আয়ের ঘাটতি তাদের তরুণ খেলোয়াড় ধরে রাখতে ব্যর্থ করছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের উপর নির্ভরতা বাড়ায় জাতীয় দলের নিজস্ব ফুটবল ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
