ক্যাম্পাসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদ সভাপতির টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেললেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার। রোববার দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে টানানো এ ব্যানার খুলে ফেলেন।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দুপুর ২টার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ব্যানার খুলে নেয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি।
ব্যানার খুলে ফেলার ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে আম্মার জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলাম। উনি অপসারণ করেননি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিঁড়ে দিলাম। ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যতগুলো উপসর্গ যখনই পাব শিক্ষকদের তখনই বিরোধিতা করব। শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষার মাথা খেয়ে একেকজনকে পলিটিক্যাল দালাল বানাইয়া রাখছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, অন্য আরেকটি দল জামায়াতে ইসলামীর জন্যও একই বার্তা, তবে তারা ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে এখন পর্যন্ত একটা বিবৃতিও দেয়নি, মিছিল-মিটিং করেনি। এমনকি তাদের দলীয় পরিচয় এই ক্যাম্পাসে আমি পাইনি এখনও। আপনারা যেকোনো দল করেন, রাজনীতি করেন তবে সেটা ক্যাম্পাসের বাইরে।
শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চান, কিন্তু এর নেপথ্যে থাকে ভয়াবহ শিক্ষক রাজনীতি। তাই এই শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে সবার আগে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ব্যানার খুলে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়া পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘তার শক্তি আছে সেটি দিয়ে খুলে ফেলেছে। এর চেয়ে আর বর্বোচিত ঘটনা কী হতে পারে? আজকে তারেক রহমান একজন দেশ বরণ্য নেতা, যার জন্য দেশ ঐক্য ধরে আছে। আমাদের ঐক্যের প্রতীক তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার টানানোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কী এমন ক্ষতি হলো যে, টানানো পোস্টার খুলে ফেলল। আমি ঘৃণাভরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সকল ছাত্র নামধারী নেতা লেখাপড়া বাদ দিয়ে খালি টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের সম্পর্কে আর কী মন্তব্য করতে পারি? এর বিচারের ভার জাতির কাছে ছেড়ে দিয়েছি।’




