বিএনপি ছেড়ে ২০০৬ সালে এলডিপি গঠন করেছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। শুরুতে সাড়া ফেললেও পরে দলে ভাঙন ও অনেক নেতাকর্মী চলে যাওয়ায় শক্তিমত্তা হারিয়েছে এলডিপি। সর্বশেষ এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দলটি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে যোগ দিয়ে সাতটি আসন পেলেও কোনোটিতেই জয়ের দেখা পায়নি। এমনকি নিজের এলাকা চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনেও বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে হেরেছেন তাঁর ছেলে ওমর ফারুক।
বিএনপি ছেড়ে আসার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এলডিপি ১৮ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনে জেতে। চন্দনাইশের আসনটিতে জয় পান অলি আহমদ। সেবার ১৮ আসনে সব মিলিয়ে এক লাখ ৯১ হাজার ৬৭৯ ভোট পায় দলটি। এবার অবশ্য সাত আসনে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়েছে এলডিপি। এর মধ্যে তিনটি আসনে তারা পেয়েছে মাত্র ৭৯২ ভোট! এ পরিস্থিতিতে অলি ও তাঁর দল এলডিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এবার চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এলডিপি প্রার্থী এয়াকুব আলী পেয়েছেন মাত্র ১১৮ ভোট, ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে মোকফার উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮১ ভোট আর ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মাহমুদ মোরশেদ পেয়েছেন ২৯৩ ভোট। তবে অন্য আসনগুলোতে তুলনামুলক ভালো ভোট পেয়েছে এলডিপি।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ২০১৯ সালের শেষ দিকে এলডিপি ছেড়ে বিএলডিপি নামে নতুন দল গঠন করেন। সর্বশেষ তিনি দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে এবার ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে ভোটে জেতেন। এর আগে ২০০৭ সালে সাবেক বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী এলডিপি থেকে বের হয়ে গিয়ে বিকল্পধারা নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি তাঁকে মর্যাদার সঙ্গে জোটে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি জামায়াত জোটে ভিড়েছেন। আমরা তো ভোটের ফল দেখলাম। চোখের সামনে একজন বড় রাজনীতিবিদের আত্মহত্যা দেখলাম।
অলির গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে। এলাকায় তাঁর ব্যাপক প্রভাব ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেন। এটা তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। তবে এবার জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি এলাকার অনেক মানুষ।
এদিকে ছেলের পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না অলি আহমদ। তাঁর ছেলে ওমর ফারুককে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, এলডিপি জামায়াত জোটে আছে, ভবিষ্যতেও এই জোটে থাকবে। নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
