তেহরানের রাজপথ আজ কান্নার মিছিলে প্রকম্পিত। যে এনকেলাব স্কয়ার অসংখ্য বিপ্লবের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেই চত্বর আজ কালো পোশাকধারী লাখো শোকার্ত মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। উঠছে খামেনি খামেনি ধ্বনিও।
গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে থাকা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণে গোটা ইরান আজ স্তব্ধ, বিমূঢ়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার খবরটি যখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়, তখন থেকেই পারস্যের আকাশ-বাতাস যেন বিলাপ করতে শুরু করেছে।
খামেনির ছবি হাতে নিয়ে বৃদ্ধ থেকে তরুণ সবার চোখেই আজ অশ্রু। তাদের প্রিয় নেতার এভাবে বিদায় নেওয়াটা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। অন্যদিকে, সীমান্তের ওপারে বাজছে যুদ্ধের দামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ডকে বিশ্বের জন্য এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি জানিয়েছে এই রক্তের ঋণ তারা কড়ায়-গন্ডায় উসুল করবে। তাদের ভাষায়, খামেনির ‘হত্যাকারী’দের জন্য অপেক্ষা করছে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং কঠোরতম প্রতিশোধ।
যখন তেহরানের রাস্তায় মানুষ শোক প্রকাশ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ চিরে গর্জে উঠছে একের পর এক মিসাইল। দোহা, দুবাই থেকে শুরু করে মানামা, সবখানেই এখন বিস্ফোরণের শব্দ আর সাইরেনের মাতম।
সূত্র: আল জাজিরা
