ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোট পেয়েছে প্রায় পৌনে ৪ কোটি; যা প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করে ২৯১ জন এ ভোট পেয়েছেন। ইতোমধ্যে দলটি ২০৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এবারে দাঁড়িপাল্লায় ভোট পেয়েছে সোয়া ২ কোটির বেশি, যা ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৬৮টি আসন পেয়ে দলটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সংসদ ও গণভোট হয়েছে বৃহস্পতিবার। এর তিন দিন পর গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ভোটের এ হিসাব প্রকাশ করে।
সংসদ ও গণভোটের হার : ভোটের পর দিন শুক্রবার দলভিত্তিক ফল ও ভোটের হার তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনের ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ (২৯৭ আসনে)। আর গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনে)। ৫০টি দল ভোটে অংশ নিলেও ২৯৭ আসনে মাত্র সাতটি দল জয় পেয়েছে।
বিএনপি-জামায়াতের
ভোটব্যাংকও বেড়েছে : নির্বাচন বিশ্লেষক আবদুল আলীম গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির ফলটা কাক্সিক্ষত ছিল। আবার জামায়াতও রেকর্ড আসন পেয়েছে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় নিপীড়িত হওয়ায় এবং জনগণের সহানুভূতি পাওয়ায় দুটি দলের ভোট ব্যাংকই বিস্তৃত হয়েছে। আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে ভোটের হার ৬০ শতাংশ হলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গেল তিন নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য আবদুল আলীম এবার বিএনপি ও জামায়াতের ভোট বাড়ার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, একেক নেতার বিরুদ্ধে কয়েক শ করে মামলা, বিগত সময়ে অত্যাচার-অবিচার, তাতে বিএনপির প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে দলটি ভাঙার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। প্রবাসে থেকে দল পরিচালনায় (চেয়ারপারসন অসুস্থ থাকা অবস্থায়) মূল দায়িত্ব তারেক রহমানকে (বর্তমান চেয়ারম্যান) পালন করতে হয়েছে। এ ছাড়া নানা বিষয়ে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন ভূমিকা’ ও নানা চাপ প্রত্যাখ্যান করার মতো বিষয় ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে বলেও মনে করেন এ বিশ্লেষক। জামায়াতে ইসলামীর ভোট বাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গেল সরকারের আমলে দলটি নিষিদ্ধ করা হলো, তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হল। এটাও বাংলাদেশের অনেক মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। তারও একটা প্রভাব আমরা দেখতে পেলাম এ নির্বাচনে। কারণ জামায়াত ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল। এবার সেটা ছাড়িয়ে রেকর্ড সংখ্যক (৬৮টি) আসনে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখানে দুটো দলই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছে, কাজেই জনসমর্থন দুই দলেই বেড়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন ও জুলাই সনদের উচ্চকক্ষ : এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি জিতেছে ২০৯ আসনে; জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিশ একটি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে থাকা গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি ও গণসংগতি আন্দোলন একটি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি, আর স্বতন্ত্ররা পাবে একটি। দ্বিকক্ষ হলে উচ্চকক্ষ গঠন কীভাবে : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেয়েছে। জুলাই সনদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি পাচ্ছে ৫০টি, জামায়াত ৩২টি, ইসালামী আন্দোলন বাংলাদেশ তিনটি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজিলশ দুটি ও স্বতন্ত্ররা ছয়টি। তবে দুই আসনের ফলাফল বাকি ও একটি আসনের ভোট এখনো হয়নি। সে হিসাবে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। তবে কোনো কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।




