নানান সংকটের পর নতুনরূপে সাজছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সেবাবান্ধব পুলিশ গড়তে ৯টি নতুন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা অর্জন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন আইন পুনর্নিরীক্ষণসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিএনপির দলীয় ইশতেহারের মধ্যে ছিল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা। আর পর্যায়ক্রমে সব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পুলিশের মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা বিনির্মাণে ৬৪ জেলায় জেলাপর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে অংশীদারির ভিত্তিতে পুলিশকে সহযোগিতা করবে। ফলে পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনরুদ্ধার হবে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হবে।

 

১৮০ দিনের কর্মসূচির অন্যতম হলো নারীবন্ধব পুলিশিং। এর জন্য ৮ বিভাগীয় শহরে নারী পুলিশের কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে তাদের সন্তানের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। এর ফলে নারী পুলিশ সদস্যদের কর্মোদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি করে জনসেবা ও জনআস্থা সৃষ্টি হবে।

নারী, শিশু ও বয়স্ক মহিলাসেবা প্রার্থীদের ডেস্ক আধুনিকায়নে ৬৪ জেলার ৬৪টি সদর থানার নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ডেস্ক ট্রেনিং এবং আধুনিক সরঞ্জামাদির মাধ্যমে মডেল ডেস্কে রূপান্তর করা। এ ছাড়া সেবাবন্ধব পুলিশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুলিশের মোটিভেশন, ট্রেনিং ও নৈতিক উন্নয়নে ৬৪টি জেলার ৬৪টি সদর থানা এবং ৫টি মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮টি কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যদের পাঁচ দিনমেয়াদি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং প্রদান করা। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করা। ৬ মাসের স্বল্পমেয়াদি কর্মপন্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সব সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন্টস সেন্টারে পরিণত করা। এর জন্য ৬৪ জেলার ৬৪টি সদর থানায় আগত সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সঠিক আচরণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কাক্সিক্ষত সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান, যা সরাসরি তদারকি ও পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। আর সেবাবন্ধব পুলিশ গঠনে ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি সংক্রান্তে পাঁচ দিনমেয়াদি ৩০টি ট্রেনিং প্রদান করা। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ও যোগ্য ট্যুরিস্ট পুলিশে পদায়নের জন্য ২৪৫ জন এসআই চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ১ বছর মেয়াদি এবং জুলাই থেকে ৫৪৬ জন এসআই রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে বাছাই করা ৩০ জনকে ট্যুরিস্ট পুলিশে পদায়ন করা হবে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তাবয়নে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।  সূত্র জানায়, সেবাবন্ধব পুলিশ গঠনে ৯টি নতুন ইউনিট গঠন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- ময়মনসিংহ মেট্রো, সাইবার পুলিশ, পুলিশ এভিয়েশন। একই সঙ্গে ১৯, ২০ এবং ২১ এপিবিএন, এনভায়রনমেন্টাল পুলিশ এবং দুটি পিটিসিসহ এসব ইউনিটের জন্য ৩২ হাজার ৯৫৪টি পদ তৈরি করা হবে। আর পুলিশের মনোবল বাড়াতে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট আঙ্গিকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং রাজশাহী রেঞ্জ জুলাই পরবর্তী পুলিশের রূপরেখা বিষয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ বছর মেয়াদি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিনটি গবেষণা পরিচালনা করেছে।

আগামী ৫ বছরে অনলাইন অভিযোগ দায়ের সুবিধা সম্প্রসারণে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এবং পিআরবি-১৯৪৩ সংশোধন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সফটওয়্যারও তৈরি করতে হবে। আর পুলিশ কমিশন আইন পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সেবা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া পুলিশের সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here