ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোথায় আছেন, কখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো করেন, সে সম্পর্কে তেহরানের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া রহিম-সাফাবি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডার এখন পরিপূর্ণ। ইসরায়েলি শাসনের প্রধানকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে আছে।
তিন দিন আগে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাফাবি দাবি করেন, ইরানের গোয়েন্দা ব্যবস্থা শুধু ইসরায়েল নয় বরং ইরানের চারপাশের অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কার্যক্রম এবং অবস্থানগুলো সম্পর্কেও পুরোপুরি সচেতন।
সাফাবি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একদিকে কূটনীতির কথা বললেও অন্যদিকে ইরানের ওপর নতুন হামলার পরিকল্পনা করে। তবে ইরান তাদের এই প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন ছিল বলেই পরমাণু আলোচনার পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণাত্মক এবং আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান দফার হামলার আগেই ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো খালি করে দিয়েছিল, যার ফলে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত জনশূন্য ও পরিত্যক্ত স্থানে হামলা চালিয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা প্রসঙ্গে সাবেক এই আইআরজিসি প্রধান বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এটি পুনর্গঠিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিয়োগে এই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বিঘ্নিত হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) খুব শীঘ্রই আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
