নেভাডার জনমানবহীন মরুপ্রান্তর এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জ, যা সাধারণ মানুষের কাছে এরিয়া ৫১ বা এরিয়া ৫২ নামে পরিচিত, সেখানে অন্তত শতাধিক রহস্যময় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। 

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই কম্পনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল ২.৫ থেকে ৪.৩ মাত্রার। সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি অনুভূত হয় রবিবার সকালে, যার প্রভাব ১৮০ মাইল দূরের কারসন সিটি এমনকি লাস ভেগাস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

 

বিশেষজ্ঞ ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জের এই অস্বাভাবিক ভূকম্পন সাধারণ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাও হতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলটি উন্নত যুদ্ধবিমান এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এবং মার্কিন অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো শক্তিশালী মারণাস্ত্র বা পারমাণবিক পরীক্ষার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কম্পনগুলোর কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ‘এপিক ফিউরি’ ও ‘লায়ন্স রোর’ নামক যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান ইতিমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তেহরান থেকে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তারা এখন থেকে আমেরিকান মূল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে এবং কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এমন এক অস্থিতিশীল মুহূর্তে এরিয়া ৫১-এর পাশে মাটির নিচে এই রহস্যময় কম্পনগুলো কি কোনো বড় ধরণের সামরিক প্রস্তুতির সংকেত, নাকি নিছক কাকতালীয় প্রাকৃতিক ঘটনা; তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here