দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করল ইতিহাসের এক আবেগঘন অধ্যায়। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা দুই নম্বর ব্লকের রেজিনগর থানার মরাদিঘী এলাকায় শুরু হয়ে গেল বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাটি খোঁড়ার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক কাজের সূচনা হয়।
এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ধরে চলে কোরআন তেলাওয়াত। কয়েক শতাধিক হাফেজ দিয়ে এই কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর বেলা ১২টা থেকে সাড়ে বারোটার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৌশলীরা এবং নির্মাণ শ্রমিকদের উপস্থিতিতে বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’
এরপর বেলা ১টা নাগাদ তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নিজে হাতে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঢালাইয়ের মসলা দেন।
তিনি বলেন, প্রথমে কোরআন পাঠের পর বাবরি মসজিদের ঢালাই নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরপর প্রকৌশলীরা নিজের মতো করে আগামী ২ বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন। এই কাজে যতই বাধা আসুক না কেন, এই বাধাকে অতিক্রম করবো। ইনশাল্লাহ আল্লাহ আমার পাশে আছে, আল্লাহ খুশি আছে। আল্লাহকে খুশি করার জন্য বাবরি মসজিদ হচ্ছে, হবে। পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের কোন শক্তি নেই এই বাবরি মসজিদ কে রুখবে।
যদিও কয়েকদিন আগে থেকেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বড় বড় জেসিবি, পে-লোডারসহ মাটি খোঁড়ার যন্ত্র। এবং কার্যত তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় মাটি খোঁড়ার কাজ।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে এসে পৌঁছেছে ইট, সিমেন্ট, বালি, লোহার রড সহ ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এমনকি বুধবার বহু মানুষকে দেখা যায় তারা মাথায় করে নিজেদের সাধ্যমত ইট বয়ে আনতে। ওই ইট দান করা হবে বাবরি মসজিদ নির্মাণে।
প্রায় ৩০০ ফুট চওড়া এবং ১৯ ফুট উঁচু এই মসজিদ নির্মাণ করতে সময় লাগবে দু’বছর। ৫০ থেকে ৫৫ কোটি রুপি ব্যয়ে তৈরি হতে চলেছে এই মসজিদ। মসজিদের মূল ঘটকের উচ্চতা হবে ১৪ মিটার, চওড়ায় ৫ মিটার।
বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে তৈরি হয় আবেগ। বহু মানুষের চোখে-মুখে দেখা যায় প্রাপ্তির আনন্দ।
বাবরি মসজিদ নির্মাণকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বাবরি যাত্রা’র সূচনা হবে। ওইদিন সকাল নয়টা নাগাদ নদীয়া জেলার পলাশী মনুমেন্ট থেকে এই বাবরি যাত্রা শুরু হবে। ২৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শুক্রবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে গিয়ে তা সমাপ্ত হবে।




