বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারী থেকে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে। তবে কতদিন ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে তা উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সে দেশের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন এমন ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি মেমোতে দেখা গেছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের অধীনে এসব দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভাগটি বর্তমানে তাদের স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় মূল্যায়ন করছে।

বিশেষ করে মিনেসোটায় করদাতার অর্থে পরিচালিত কল্যাণ কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনার পর থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছে সোমালিয়া। ঐ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই সোমালি নাগরিক বা সোমালি-আমেরিকান।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কনস্যুলারগুলোতে পাঠানো একটি বার্তায় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন  ইমিগ্রেশন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের অধীনে কঠোর নতুন নিয়মটি প্রয়োগ করেন।

নতুন নির্দেশনায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারে এমন সব আবেদনকারীকে ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে বলা হয়েছে।  এক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে কি না—এমন সব বিষয় বিবেচনা করা হবে।

এর ফলে বয়স্ক বা অসুস্থ আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এছাড়া যাদের অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, পাবলিক চার্জ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করতে পারে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করার দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ব ব্যবহার করবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

যদিও ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান, তবে বিভিন্ন প্রশাসনের অধীনে এর প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন এই আইনের আওতা সীমিত করে শুধু নগদ অর্থ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। এর ফলে ফুড স্ট্যাম্প বা আবাসন ভাউচারের মতো কর্মসূচিগুলো এর বাইরে ছিল। ২০১৯ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প এই সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করেছিলেন, যা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন তা বাতিল করে দেয়।

তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে– আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বার্বাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here