মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন বারুদের গন্ধ আর কানফাটানো বোমার শব্দ, তখন ইরানের রাজধানী তেহরানের ঘরে ঘরে চলছে এক ভিন্ন লড়াই। ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক বিমান হামলার প্রচণ্ড শব্দ থেকে সন্তানদের মানসিকভাবে রক্ষা করতে গান গেয়ে আর নেচে তাদের ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন অনেক অসহায় বাবা-মা।
গত রাতে তেহরানে নতুন দফায় বড় ধরনের হামলার পর এক বাসিন্দা জানান, বোমার প্রচণ্ড কম্পনে তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে। ওই মুহূর্তে আতঙ্কিত শিশুদের শান্ত রাখতে তারা উচ্চৈঃস্বরে গান চালিয়ে নাচতে শুরু করেন, যাতে বাইরের ধ্বংসযজ্ঞের শব্দ শিশুদের কানে না পৌঁছায়।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চারা জেগে ছিল, তাই আমাদের বাধ্য হয়েই নাচ-গানের অভিনয় করতে হয়েছে যাতে বোমার শব্দ আড়াল করা যায়। জানি না কতদিন এভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই সামরিক অভিযান দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তেহরান থেকে প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত মাহাল্লাত শহরেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একই স্থানে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে এক মুহূর্তের জন্য শান্তি ফিরে এলেও পরক্ষণেই আবার আতঙ্ক শুরু হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অনেকসময় মনে হয় হামলা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও একই জায়গায় বোমাবর্ষণ করা হয়। এই অনিশ্চয়তা আর ক্রমাগত প্রাণভয়ের মধ্যে শিশুদের শৈশব এখন চার দেয়ালের মাঝে গান আর কৃত্রিম হাসির আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের আকাশ এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নয়, বরং তা হাজারো পরিবারের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিএনএন




