ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানিয়েছেন, তিনি দৈনন্দিন কাজে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তবে বলেছেন, যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম রয়েছে। নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপে বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে ডোভাল বলেন, তিনি কেবল পারিবারিক বিষয় এবং অন্যান্য দেশের মানুষের সাথে কথা বলার জন্য ফোন ব্যবহার করেন।
ইন্টারনেটে অজিত ডোভাল সম্পর্কে অসংখ্য গল্প প্রচারিত রয়েছে। কিছু সত্য হলেও, এর মধ্যে অনেকগুলিই শেষ পর্যন্ত কারও কল্পনার ফসল বা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। গত বছর প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট দোভালের নামে মিথ্যাভাবে প্রচারিত একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করে, যেখানে পাকিস্তান থেকে আসন্ন সাইবার আক্রমণ সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। পিআইবি ফ্যাক্ট-চেক স্পষ্ট করেছে যে, অজিত ডোভালের কোনও অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই এবং তার নাম এবং ছবি সহ প্রচারিত পোস্টটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও ভুয়া। ১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্ম নেয়া অজিত ডোভাল পঞ্চম ব্যক্তি যিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদটিতে অধিষ্ঠিত। অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার প্রথম এই পদটি সৃষ্টি করেছিল।
দোভাল ১৯৬৮ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগদান করেন এবং কেরালা ক্যাডারে নিযুক্ত হন। তিনি সাহসিকতার জন্য কীর্তি চক্র প্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। আজ পর্যন্ত তিনিই একমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা যিনি এই পুরষ্কার পেয়েছেন, যা সাধারণত সামরিক সম্মান হিসেবে দেয়া হয়।
ডোভাল তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় গোয়েন্দা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের ভূমিকায় কাটিয়েছেন। তিনি পাঞ্জাব, মিজোরাম এবং উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন অংশে বিদ্রোহী অভিযান দমনে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন। ১৯৯৯ সালে কান্দাহারে বিমান (আইসি-৮১৪) অপহরণ সংকটের সময় তিনি আলোচকদের একজন ছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে, তিনি বিমান অপহরণ সম্পর্কিত একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি পাকিস্তানে গোপনে বেশ কয়েক বছর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন বলেও জানা যায়। ২০১৪ সালে ডোভাল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলা সহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ডোকলাম অচলাবস্থা মোকাবেলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনেও জড়িত রয়েছেন ।
